Wednesday, January 29, 2014

অপারেশান সফেদ-সাগর

 (১)

জুন, ১৯৯৯

বাবা অফিস থেকে ফিরেই বলল, "নীলা, খাস খবর টা চালাও, এখুনি!"

"...সীমান্তের পার্শ্ববর্তী ন্যাশানাল হাই-ওয়ে ১এ তে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমন। সরকারি সুত্রে জানা গেছে স্থানীয় অধিবাসী দের এলাকা ছেড়ে সমতলের দিকে চলে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে... ভারতীয় সেনাবাহিনীর পেট্রোল পার্টি অবিরাম গুলিবর্ষণে ছত্র-ভঙ্গ..."

আমাদের জেনাসেশানের এক্সপেরিএন্স করা এখনও অব্দি একমাত্র যুদ্ধ। হাওয়া টা যদিও পুরো টাই আমাদের দিকেই ছিল। বাজারদর ওঠানামা করেনি, ইন্সপায়ারিং গান বাঁধা হয়নি, ঘরের জোয়ান ছেলেদের জোর করে সেনা হতে বলা হয়নি, তবু ভারত পাকিস্তান সেমিফাইনাল ম্যাচের চাপা টেনশানের একটা আবহ ছিলই।

সবার থেকে বেশি ব্যাপার টাকে ক্যাশ করেছে বলিউড। মিলিটারি মাল্টি-হিরো ছবি অ্যাদ্দিনে কাল্ট হয়ে গেছে।
আর অবশ্যই বিরোধীরা। একটা স্ট্যান্ডিং যুদ্ধ মানে সরকারের পক্ষে কতো টা চাপ ভাবুন তো!

চায়ের দোকান, মালের আড্ডা, বেডরুম, টিভির ঘর - সরগরম থাকত যুদ্ধের 'আসল' খবর টার আলোচনায়।
তলায় তলায় যেইভাবে বাংলা মেগা সিরিয়াল চলে সেইরকম যুদ্ধ টাও চলছিলো।

সেদিন সকাল থেকে ঝড় বৃষ্টি। বাবা বলল এবার তো চুল কাটতেই হবে। তাই সকাল সকাল সেলুন যাওয়া। তখন যদিও চুল নিয়ে ইন্ডিফারেন্ট ছিলাম। কেয়ারী করার শুরু ক্লাস নাইন থেকে।

সেলুন তখন একটা থিঙ্কার'স ক্লাব। প্রত্যেকের যুদ্ধ আর ওয়ার- স্ট্রাটেজি নিয়ে নিজস্ব মতামত আছে। প্রতি টি ওপিনিওন-ই সুচিন্তিত এবং সুন্দর করে রিপ্রেসেন্ট করা। বাইরে অঝোর ধারায় বৃষ্টি আর ভেতরে তাক লাগিয়ে দেওয়া ওয়ার- স্ট্রাটেজি নিয়ে আলোচনা। কিশোর কুমার বলল "এক পলকে একটু দেখা..."। আড্ডা জমে হ্যালেলুইয়া।

এমন সময় চুলকাটার কাকু বলল, "এই সব বাজে কথা, ইন্ডিয়ার কি লোকজন কম আছে, একশ কোটী। মুখের কথা?! সব্বাই মিলে ওয়াঘা সীমান্তে দাঁড়িয়ে ছড়ছর করে মুতে দিলেই তো পাকিস্তান ভেসে যাবে!"

কেউ এরপর আর কোন কথা বলেনি। মাস্টার-প্ল্যান এটাই।



(২)

যুদ্ধ বেশিদিন গড়ায় নি। কদিন বাদেই সাত সমুদ্র তেরো নদী পার থেকে একটা ফোন কল সব ঠিক ঠাক করে দিলো। পাকিস্তান ম্যাজিকের মত সবকটা ফ্রন্ট হারতে লাগলো। জুলাই এর ২৬ তারিখ ভারত জয় ঘোষণা করল।
অ্যাদ্দিন যেন দুই ভাই বাবার সামনে আখাড়ায় কুস্তি করছিলো। বাবা বলল বেলা বেড়েছে তাই এখন দুভাই গলা জড়াজড়ি করে পুকুরে ডুব দিচ্ছে।