- তোর পকেটে কি?
- পকেটে? আ-আমার?
- অ্যাই শুয়ার! দাঁড়া! দাঁড়া! পকেটে হাত দিবিনা...! দাঁড়া বলছি!
এক পা, এক পা করে পিছু যেতে যেতে ওসমান কুড়ি গজ যাওয়ার পর উলটোদিকে ঘুরে কাসুন্দিয়া রেললাইনের দিকে যেই স্পীডে দৌড় টা লাগাল, মন্ত্রিয়েল অলিম্পিকের ধরতা-কর্তারা কাছে থাকলে মহাভারতের ভীষ্মের মত ফোঁস করে গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলতেন। ছিয়াত্তরের আগুণ বাজারে কলাটা-মুলোটা কিনতে গিয়ে হেগে-মুতে বড়া ভেজে ফ্যালা সাধারণ মানুষ হাঁ' করে দেখছিল কিরকম ভাবে একটা হাঁটুর বয়েশি বোমাবাজের ভয়ে নব-পাঁজার সাঙ্গোপাঙ্গরা প্রাণের ভয়ে পালাচ্ছে। আর ওদিকে চৌরাস্তার অপারে ঘোড়া-মিত্তির সাদা পাঞ্জাবীর পকেটে রিভলবার সমেত হতবাক হয়ে ভাবছে এই দুঃসাহসী খুদে গুন্ডাটাকে চিনের দালাল রা কোত্থেকে আমদানি করেছে। কাসুন্দিয়ার শ্রেষ্ঠ বখাটে আর গুন্ডাদের রীতিমতন কমিটি বসিয়ে রিক্রুট করেছেন তিনি, এই বয়েসে আর এইসব ভাল্লাগেনা, ইসোফেগাস দিয়ে অম্লস্রোতের ধারার চোটে সম্বিত ফিরতে তিনি দেখলেন বন্ধের দিনের র্যাম্পাট ঝারপিঠ টা আজকের মত ডিসমিস।
আমার বাবার বড়োজেঠু ছিলেন কাসুন্দিয়ার পোস্টমাস্টার, কর্নেল মেজাজের লোক। গর্জন করে বললেন, 'চাক্কা-বন্ধের দিন আবার ইশকুল কিসের?!'
তখন বিবেকানন্দ স্কুলের হেডমাস্টার ছিলেন বামনদেববাবু, যার ব্যাকরণ নব্য-আঁতেলরা পড়েননি বলে আজ এই অবস্থা।
মেজকা অম্লানবদনে বলল, 'স্যার বলেছে ছাত্রদের একটা নির্দিষ্ট বয়েস অব্দি অ্যাপলিটিকাল থাকা উচিত।'
-ওরে শালা শুয়ারের বাচ্চা, চ্যাটাং চ্যাটাং কথা!'
বামনদেববাবু হয়ত সত্যিই বলেছিলেন, কিন্তু মেজকার ধান্দা ছিল খোয়ার মাঠে গিয়ে সারাদিন বল পেটাবার। ক্লাস এলেভেনে মোহনবাগানের ট্রায়াল দিয়েছিলেন, কিন্তু মাঝবয়েসে গিয়ে অ্যালকোহলিক হয়ে যান। মেজকার এক হাড়ে হারামজাদা বন্ধু ছিল সতে বলে, সে আমার বাবা এবং দুই কাকা, ঐ জেনারেশানটার সবাইকে বিড়ি ধরিয়েছিল। সতে এসেছিল বাড়িতে মেজকার সাথে ইস্কুল যাবে বলে, ঠাকুরমা দুইজনের হাতে দুটি পরিপুষ্ট আম দিয়ে বললেন, পকেটে নিয়ে যা।
গল্পের শুরু এখানেই, নস্করপাড়ার মোড়ে আসতেই মেজকা দেখল রাস্তার দুদিক থেকে প্রাচীন, ঘাঘু কংগ্রেসী ঘোড়া-মিত্তির গুন্ডা নিয়ে দোকান খোলাতে এলাকায় ঢুকছে, আর সিপিএমের ইয়ং ব্লাড নব-পাঁজা টেরিটরি আগলে বাচ্চাদের চিৎকার করে বলছে, 'ভয় পাবেন না কমরেড, বিপ্লবের পথে এরকম কাঁটাকে উপড়ে ফেলতে হয়...', এই প্যান্ডিমনিয়ামের মাঝে ওসমান পাঁঠা কাটার দোকানের সামনে মেজকার আর সতের মুখোমুখি হয়ে পড়ে, ফোলা পকেট দেখে হঠাৎ তার মনের প্যারানইয়া সে মিষ্টি গ্রীষ্মের বাতাসে দাবানলের মত ছড়িয়ে দেয়, ঘন্টাখানেকের মধ্যে পাড়ায় পাড়ায় রটে যায় অশান্ত সময়ের রবিন হুড কুণ্ডু-বাড়ির মেজছেলে।
দাদু পুরো ব্যাপারটা শুনে নব কে ডেকে পাঠালেন।
- নব, আমাদের বাড়ি মানে কি?
-কি দাদা? নব কাঁচুমাচু।
-আমাদের বাড়ি মানে ২৪ টা সিপিএমের ভোট।
-হ্যাঁ স্যার।
-গতমাসের ব্রিগেডে এবাড়ি থেকে কটা রুটি গেছিলো?
-২০০ টা স্যার।
-আমার মেজছেলেকে নিয়ে তোমরা এলাকা-এলাকা খেলছ, রাস্কেল?
দাদু হুঙ্কার দিয়ে বললেন।
আমার এখনও মনে পড়ে স্বাধীনতা দিবসের দিন নব দা পার্টি অফিসের সামনে বসে জিলিপি বিতরণ করছে, আমাকে দেখে, ডেকে বললে আর দুটো খেয়ে যা, সত্যনারায়ণের মাল, একদম টাটকা। ল্যাম্প পোস্টের গায়ে বাঁধা চোঙ্গা তখন গাইছে, 'শিল্পী সংগ্রামী পল রবসন...'।
- পকেটে? আ-আমার?
- অ্যাই শুয়ার! দাঁড়া! দাঁড়া! পকেটে হাত দিবিনা...! দাঁড়া বলছি!
এক পা, এক পা করে পিছু যেতে যেতে ওসমান কুড়ি গজ যাওয়ার পর উলটোদিকে ঘুরে কাসুন্দিয়া রেললাইনের দিকে যেই স্পীডে দৌড় টা লাগাল, মন্ত্রিয়েল অলিম্পিকের ধরতা-কর্তারা কাছে থাকলে মহাভারতের ভীষ্মের মত ফোঁস করে গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলতেন। ছিয়াত্তরের আগুণ বাজারে কলাটা-মুলোটা কিনতে গিয়ে হেগে-মুতে বড়া ভেজে ফ্যালা সাধারণ মানুষ হাঁ' করে দেখছিল কিরকম ভাবে একটা হাঁটুর বয়েশি বোমাবাজের ভয়ে নব-পাঁজার সাঙ্গোপাঙ্গরা প্রাণের ভয়ে পালাচ্ছে। আর ওদিকে চৌরাস্তার অপারে ঘোড়া-মিত্তির সাদা পাঞ্জাবীর পকেটে রিভলবার সমেত হতবাক হয়ে ভাবছে এই দুঃসাহসী খুদে গুন্ডাটাকে চিনের দালাল রা কোত্থেকে আমদানি করেছে। কাসুন্দিয়ার শ্রেষ্ঠ বখাটে আর গুন্ডাদের রীতিমতন কমিটি বসিয়ে রিক্রুট করেছেন তিনি, এই বয়েসে আর এইসব ভাল্লাগেনা, ইসোফেগাস দিয়ে অম্লস্রোতের ধারার চোটে সম্বিত ফিরতে তিনি দেখলেন বন্ধের দিনের র্যাম্পাট ঝারপিঠ টা আজকের মত ডিসমিস।
আমার বাবার বড়োজেঠু ছিলেন কাসুন্দিয়ার পোস্টমাস্টার, কর্নেল মেজাজের লোক। গর্জন করে বললেন, 'চাক্কা-বন্ধের দিন আবার ইশকুল কিসের?!'
তখন বিবেকানন্দ স্কুলের হেডমাস্টার ছিলেন বামনদেববাবু, যার ব্যাকরণ নব্য-আঁতেলরা পড়েননি বলে আজ এই অবস্থা।
মেজকা অম্লানবদনে বলল, 'স্যার বলেছে ছাত্রদের একটা নির্দিষ্ট বয়েস অব্দি অ্যাপলিটিকাল থাকা উচিত।'
-ওরে শালা শুয়ারের বাচ্চা, চ্যাটাং চ্যাটাং কথা!'
বামনদেববাবু হয়ত সত্যিই বলেছিলেন, কিন্তু মেজকার ধান্দা ছিল খোয়ার মাঠে গিয়ে সারাদিন বল পেটাবার। ক্লাস এলেভেনে মোহনবাগানের ট্রায়াল দিয়েছিলেন, কিন্তু মাঝবয়েসে গিয়ে অ্যালকোহলিক হয়ে যান। মেজকার এক হাড়ে হারামজাদা বন্ধু ছিল সতে বলে, সে আমার বাবা এবং দুই কাকা, ঐ জেনারেশানটার সবাইকে বিড়ি ধরিয়েছিল। সতে এসেছিল বাড়িতে মেজকার সাথে ইস্কুল যাবে বলে, ঠাকুরমা দুইজনের হাতে দুটি পরিপুষ্ট আম দিয়ে বললেন, পকেটে নিয়ে যা।
গল্পের শুরু এখানেই, নস্করপাড়ার মোড়ে আসতেই মেজকা দেখল রাস্তার দুদিক থেকে প্রাচীন, ঘাঘু কংগ্রেসী ঘোড়া-মিত্তির গুন্ডা নিয়ে দোকান খোলাতে এলাকায় ঢুকছে, আর সিপিএমের ইয়ং ব্লাড নব-পাঁজা টেরিটরি আগলে বাচ্চাদের চিৎকার করে বলছে, 'ভয় পাবেন না কমরেড, বিপ্লবের পথে এরকম কাঁটাকে উপড়ে ফেলতে হয়...', এই প্যান্ডিমনিয়ামের মাঝে ওসমান পাঁঠা কাটার দোকানের সামনে মেজকার আর সতের মুখোমুখি হয়ে পড়ে, ফোলা পকেট দেখে হঠাৎ তার মনের প্যারানইয়া সে মিষ্টি গ্রীষ্মের বাতাসে দাবানলের মত ছড়িয়ে দেয়, ঘন্টাখানেকের মধ্যে পাড়ায় পাড়ায় রটে যায় অশান্ত সময়ের রবিন হুড কুণ্ডু-বাড়ির মেজছেলে।
দাদু পুরো ব্যাপারটা শুনে নব কে ডেকে পাঠালেন।
- নব, আমাদের বাড়ি মানে কি?
-কি দাদা? নব কাঁচুমাচু।
-আমাদের বাড়ি মানে ২৪ টা সিপিএমের ভোট।
-হ্যাঁ স্যার।
-গতমাসের ব্রিগেডে এবাড়ি থেকে কটা রুটি গেছিলো?
-২০০ টা স্যার।
-আমার মেজছেলেকে নিয়ে তোমরা এলাকা-এলাকা খেলছ, রাস্কেল?
দাদু হুঙ্কার দিয়ে বললেন।
আমার এখনও মনে পড়ে স্বাধীনতা দিবসের দিন নব দা পার্টি অফিসের সামনে বসে জিলিপি বিতরণ করছে, আমাকে দেখে, ডেকে বললে আর দুটো খেয়ে যা, সত্যনারায়ণের মাল, একদম টাটকা। ল্যাম্প পোস্টের গায়ে বাঁধা চোঙ্গা তখন গাইছে, 'শিল্পী সংগ্রামী পল রবসন...'।