(১)
কড়া হুইস্কির গন্ধ টাও তার পর বাবার সাথে তার নিজের ঘরের দরজার ওপারে গিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলেছিল।
কিন্তু তন্ময় বাবু খুব জোরে কেঁদে ফেলতে বা অবাক হয়ে যেতে পারেননি। তিনি নিজের ঘরে গিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে এক বার বিচ্ছিরি ভাবে জিভ ভেঙ্গিয়েছিলেন। তারপর নিজেই চমৎকৃত হয়েছিলেন, জিভ ভ্যাঙ্গানোর এফিসিয়েন্সি দেখে। রাগ, দুঃখ, অভিমান, মনের ভেতর কুরে কুরে খাওয়া বিস্ময় সব এক নিমেষে হাওয়া!
তারপর থেকে তন্ময় বাবু তার জীবনের প্রতি টা টারনিং পয়েন্টে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করেছেন জিভ ভ্যাঙ্গানোর মত সহজ ওষুধ আর কিছু হতেই পারেনা।
বোর্ডস পরীক্ষার সময় অ্যাডভোকেট কাকু তাকে যখন মিষ্টি হেসে জিজ্ঞেস করলেন, 'কি বাবু? কার সাথে থাকবে? মা না বাবা?', তিনি ঐ মুহূর্তে মেনটাল টারময়েল নিতে না পেরে হঠাৎ দু ইঞ্চি লম্বা জিভ বের করে জুনিয়র উকিল টিকে দেখিয়ে দিয়েছিলেন। সবাই ভেবেছিল সে শকে পাগল হয়ে গ্যাছে। কিন্তু তিনি তখন বুঝতে পেরেছিলেন যে তার কতো হাল্কা লাগছে। কাউকে বোঝাবার চেষ্টাও করেননি, আর এই ঘটনার কিছুদিন বাদে কারোর আর কিছু গেল এলো না।
সাতাশে পা দেওয়ার পরই তার বিয়ে হয়ে যায়। পড়াশোনায় খারাপ ছিলেন না, ভাল চাকরি করতেন। ফুলশয্যার রাতে বউয়ের ব্লাউসের প্রথম দু তো বোতাম খুলে, এত টাই ঘাবড়ে গেছিলেন যে বউকে হঠাৎ জিভ ভেঙ্গিয়ে দেন। বউ টি অদ্ভুত ভাবে তার দিকে অনেক ক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর, ওপাশ ফিরে শুয়ে পড়েছিলো।
বিবাহিত জীবনেও ধরে নেওয়া যায়, তিনি বা তার বউ, কেউই খুব একটা সুখি নয়। কারন সুখি হয়ে গেলে যতটা ইনিসিয়েটিভ নিতে হয়, তিনি তার ধার কাছ দিয়েও হাঁটতে পারেননি।
এইভাবে দিনের পর দিন জিভ ভ্যাঙ্গানোর সাথে তার একটা সহজ সখ্যতা তৈরি হয়ে গেছিলো। যেটা তিনি সপ্তমীর দিন সকালে শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার পথে সুলেখার মোড়ে রিক্সাওয়ালার সাথে ঝগড়া করার সময়ও ত্যাগ করতে পারেননি।
(২)
রাই অ্যান্ড আই হ্যাড সেক্স টুডে, ফর দ্য ফার্স্ট টাইম।
প্রথম বারের কিছু সংকোচ, কিছু অবিশ্বাস, ভয়, সবকিছু মিলিয়ে বুকের মধ্যে যে ঘোড়া দৌড় টা হচ্ছিলো, সেটার জন্যেই মেনলী, আমরা কাঊকে দোষারোপ না করেও, অটোতে নির্বাক হয়ে পাশাপাশি বসেছিলাম। রাই এর ডান হাত টা আমার হাঁটুতে খোঁচা মারছিল আর আমি ভাবছিলাম সহযাত্রী দের নজর এড়িয়ে সেটা এক বার সেটা কিভাবে ধরা যায়।
হঠাৎ নীরবতা ভেঙ্গে, গাড়ি ঘোড়ার শব্দ ছাপিয়ে, রাই বলে ঊঠলো, ' অ্যাই! ঐ লোক টা আমাকে ভ্যাঙ্গালো!'
আমি ডান দিকের রাস্তার ওপারে তাকিয়ে দেখলাম, একটা লোক, সাদা-মাটা দেখতে, পাজামা পাঞ্জাবী পরা, সম্ভবত ষাটোর্ধ, তখনও অপ্রস্তুত ফ্যালফ্যালে দৃষ্টিতে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
রাই তখন বলে যাচ্ছিল, 'লোক টা কিন্তু খারাপ কিছু জেশ্চার করেনি, অ্যাম শিওর, কিন্তু হঠাৎ এমনি কেন করবে? কী অদ্ভুত! পাগল নাকি! ...'
ওর ঠোটের দু টো কোনা দিয়ে ওর টিপিক্যাল দামী মদের মতো হাসি টা ঊপছীয়ে পড়ছিল। অ্টোর মধ্যেকার ট্রপিকাল রেন- ক্লাউড কেটে গিয়ে হঠাৎ সূর্য উঠেছিল।
(৩)
ইতিমধ্যে, আমাদের সবার মাথার উপর টেলেগ্রাফের তারে বসা তিনটে আল্টিমেট ফিঙে পাখি খুব হাসছিল! দ্যাখ শুয়োরের বাচ্চা, দাবা খেলা কাকে বলে!
oshadharon!
ReplyDelete:)
ReplyDelete