বখরিদের সময়।
দরজার কোল্যাপ্সিবল টা টেনে মৃত্তিকা একবার ভাবল যে টুনুকে আলমদের বাড়ি থেকে ডেকে নেবে কিনা। ওদের বারান্দায় দুটো প্রকাণ্ড দুম্বো হালালের অপেক্ষায় আছে। টুনু তাদের পাতা খাওয়াতে গেছে। ঘড়িতে একটা বাজে। আজ না হয় চান নাই করল।
সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে আলমদের দরজার দিকে তাকিয়ে মৃত্তিকা মনে মনে ধন্যবাদ দিল তাদের। রামরাজাতলা থেকে যৌথ পরিবার ভেঙে বেরিয়ে আসার পর ওদের পরিবার কতই না সাহায্য করেছে। বিশেষত এইরকম সময়।
গত দু বছর মেন্টেনেন্সের এর অভাবে ফ্ল্যাট এর সিড়ি, ছাদ ও অন্যান্য কমন এরিয়াগুলো খন্দহরের রূপ নিয়েছে। বাসিন্দা প্রায় ২৫ টি পরিবার, অধিকাংশ মুসলিম, বেলিয়াসোর, হাওড়া ময়দান থেকে উঠে আসা নিউক্লিয়ার মর্দ-জেনানা, জৈন-হাসপাতালের বিরাট ডাক্তার ও তাঁর নিরক্ষর স্ত্রী, বাংলাদেশ এর রিফিউজি... এরা সবাই যেন প্রতিনিয়ত ছায়ার সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে। সেগুণ কাঠের পালিশকরা হাসিমুখ দরজার পেছনে নিজেদের পার্সোনাল স্পেসে সতর্কভাবে হাসিকান্নার অভিনয় করে সমগ্র নব্বইয়ের দশক কাটিয়ে দিলে।
ফ্ল্যাটের সামনেই আন্দুল রোড। গেস্টকিন উইলিয়ামসের বন্ধ হয়ে যাওয়া বিরাট কারখানার জন্যে সমস্ত এলাকাই ধুলোমাখা বেশ কয়েকটা জেনারেশান ধরে। প্রায় দু হাজার কর্মী এখন বিকল্প জীবিকায়। রিক্সা চালানো, সব্জি বেচা, দোকানে কাজ, তেলেভাজা, চুরি, নেশা ইত্যাদি।
পাশেই দুটো হার্ডওয়েরের দোকান, বইখাতার দোকান টা তার পাশেই। সেখান থেকে দুটো পশ্চিমবঙ্গের পলিটিক্যাল ম্যাপ কিনল মৃত্তিকা। টুনুর জিওগ্রাফি হোমওয়রক তাকেই করাতে হয়। হাওড়া গার্লস থেকে ইতিহাসে এম.এ. করার সময় জিওগ্রাফি তার পাসে ছিল। হাওড়া গার্লসে নাকি কোনোএকটা সময় জীবনানান্দ প্রফেসর ছিলেন।
তারপর কারখানার গেটের সামনে থেকে বাস। দানেশসেখ লেনে নেমে ঘুপচি মতো ওষুধের দোকানটায় গিয়ে মৃত্তিকা ধীরেধীরে বলল, "দাদা, স্পাজমোপ্রক্সিভন, তিনটে।"
ওষুধের দোকানী ঝিমনো বন্ধ করে ভিতর দোকানে চলে গেল ওষুধ আনতে। একবারের জন্যেও সে মুখ তুলে তাকাল না, কোনোরকম ডকুমেন্টস ও চাইল না। এটা মৃত্তিকার চেনা দোকান। সেইজন্যেই দুটো স্টপ বাসে এখানে আসা।
এদিক ওদিক তাকিয়ে মৃত্তিকা দেখল সামনেই একটা ফুচকাওয়ালা। ওষুধ আর খুচরো টাকা হাতে নিয়ে ক্লান্ত পায়ে সেইদিকে এগিয়ে চলল। বাড়িতে গগন প্রচণ্ড পোস্ট-উইথড্রয়াল যন্ত্রণায় ভুগছে। জিনিসপত্র ভাঙছে। কোল্ড টার্কির সময় স্পাজমোপ্রক্সিভন লাগে তার। এর আগে বার তিনেক রিহ্যাব ট্রিটমেন্ট ফেল করেছে। মৃত্তিকা তাকে বলেছে এই শেষ। এর পরও যদি সে আবার ব্রাউন-সুগার করে তাহলে সে বাতানলে ফিরে যাবে টুনুকে নিয়ে। গ্রাম-মফস্বলের মেয়েদের এরকম জেদ কি থাকে?
প্রথম ফুচকাটা মুখে দিয়ে মৃত্তিকার মনে হল টুনুর হয়ত খিদে পেয়েছে। তারপরেই আবার মনে হল, পরবের সময় একটা বাচ্চাকে আলমরা কিছু নিশ্চয়ই খাওয়াবে।
অসময়ে, মৃত্তিকা ঠিক সেইখানে দাঁড়িয়ে একটার পর একটা ফুচকা খেয়ে যেতে থাকল।
দরজার কোল্যাপ্সিবল টা টেনে মৃত্তিকা একবার ভাবল যে টুনুকে আলমদের বাড়ি থেকে ডেকে নেবে কিনা। ওদের বারান্দায় দুটো প্রকাণ্ড দুম্বো হালালের অপেক্ষায় আছে। টুনু তাদের পাতা খাওয়াতে গেছে। ঘড়িতে একটা বাজে। আজ না হয় চান নাই করল।
সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে আলমদের দরজার দিকে তাকিয়ে মৃত্তিকা মনে মনে ধন্যবাদ দিল তাদের। রামরাজাতলা থেকে যৌথ পরিবার ভেঙে বেরিয়ে আসার পর ওদের পরিবার কতই না সাহায্য করেছে। বিশেষত এইরকম সময়।
গত দু বছর মেন্টেনেন্সের এর অভাবে ফ্ল্যাট এর সিড়ি, ছাদ ও অন্যান্য কমন এরিয়াগুলো খন্দহরের রূপ নিয়েছে। বাসিন্দা প্রায় ২৫ টি পরিবার, অধিকাংশ মুসলিম, বেলিয়াসোর, হাওড়া ময়দান থেকে উঠে আসা নিউক্লিয়ার মর্দ-জেনানা, জৈন-হাসপাতালের বিরাট ডাক্তার ও তাঁর নিরক্ষর স্ত্রী, বাংলাদেশ এর রিফিউজি... এরা সবাই যেন প্রতিনিয়ত ছায়ার সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে। সেগুণ কাঠের পালিশকরা হাসিমুখ দরজার পেছনে নিজেদের পার্সোনাল স্পেসে সতর্কভাবে হাসিকান্নার অভিনয় করে সমগ্র নব্বইয়ের দশক কাটিয়ে দিলে।
ফ্ল্যাটের সামনেই আন্দুল রোড। গেস্টকিন উইলিয়ামসের বন্ধ হয়ে যাওয়া বিরাট কারখানার জন্যে সমস্ত এলাকাই ধুলোমাখা বেশ কয়েকটা জেনারেশান ধরে। প্রায় দু হাজার কর্মী এখন বিকল্প জীবিকায়। রিক্সা চালানো, সব্জি বেচা, দোকানে কাজ, তেলেভাজা, চুরি, নেশা ইত্যাদি।
পাশেই দুটো হার্ডওয়েরের দোকান, বইখাতার দোকান টা তার পাশেই। সেখান থেকে দুটো পশ্চিমবঙ্গের পলিটিক্যাল ম্যাপ কিনল মৃত্তিকা। টুনুর জিওগ্রাফি হোমওয়রক তাকেই করাতে হয়। হাওড়া গার্লস থেকে ইতিহাসে এম.এ. করার সময় জিওগ্রাফি তার পাসে ছিল। হাওড়া গার্লসে নাকি কোনোএকটা সময় জীবনানান্দ প্রফেসর ছিলেন।
তারপর কারখানার গেটের সামনে থেকে বাস। দানেশসেখ লেনে নেমে ঘুপচি মতো ওষুধের দোকানটায় গিয়ে মৃত্তিকা ধীরেধীরে বলল, "দাদা, স্পাজমোপ্রক্সিভন, তিনটে।"
ওষুধের দোকানী ঝিমনো বন্ধ করে ভিতর দোকানে চলে গেল ওষুধ আনতে। একবারের জন্যেও সে মুখ তুলে তাকাল না, কোনোরকম ডকুমেন্টস ও চাইল না। এটা মৃত্তিকার চেনা দোকান। সেইজন্যেই দুটো স্টপ বাসে এখানে আসা।
এদিক ওদিক তাকিয়ে মৃত্তিকা দেখল সামনেই একটা ফুচকাওয়ালা। ওষুধ আর খুচরো টাকা হাতে নিয়ে ক্লান্ত পায়ে সেইদিকে এগিয়ে চলল। বাড়িতে গগন প্রচণ্ড পোস্ট-উইথড্রয়াল যন্ত্রণায় ভুগছে। জিনিসপত্র ভাঙছে। কোল্ড টার্কির সময় স্পাজমোপ্রক্সিভন লাগে তার। এর আগে বার তিনেক রিহ্যাব ট্রিটমেন্ট ফেল করেছে। মৃত্তিকা তাকে বলেছে এই শেষ। এর পরও যদি সে আবার ব্রাউন-সুগার করে তাহলে সে বাতানলে ফিরে যাবে টুনুকে নিয়ে। গ্রাম-মফস্বলের মেয়েদের এরকম জেদ কি থাকে?
প্রথম ফুচকাটা মুখে দিয়ে মৃত্তিকার মনে হল টুনুর হয়ত খিদে পেয়েছে। তারপরেই আবার মনে হল, পরবের সময় একটা বাচ্চাকে আলমরা কিছু নিশ্চয়ই খাওয়াবে।
অসময়ে, মৃত্তিকা ঠিক সেইখানে দাঁড়িয়ে একটার পর একটা ফুচকা খেয়ে যেতে থাকল।