আমি গত বাইশ বছর এইভাবে কারুর নগ্ন শরীর আঁকড়ে ধরে শুয়ে থাকতে চাইনি। এর আগে যে আমি নারীশরীর-বর্জিত ছিলাম তা নয়। কিন্তু নিঃশব্দ বিস্ফোরণ এই প্রথম।
পেটের মধ্যে গজগজ করছে সস্তা হুইস্কি, আধা ঘণ্টা আগে টানা শেষ জয়েন্ট টার ধোঁওয়া টা এখন আর্কিমিডিয়ান স্পাইরাল হয়ে বন্ধ সীলিং ফ্যানটার কাছে থমকিয়ে আছে। সেপ্টেম্বরের লিকুইফায়েড গরমেও পাখা না চালানোর দুটো কারন। এক, মোবাইলের দুর্বল স্পিকারে 'অ্যাটম হার্ট মাদার' চলছিলো, ফ্যানের যান্ত্রিক শব্দ টা এড়ানোর চেষ্টা টা নিতান্তই জাস্টিফায়েড। দুই, গাঁজা গরম কম লাগায়। ভাড়া বাড়ি টার বারান্দায় জয়েন্ট টা মারতে ভয় ভয়-ই লাগছিলো, কারন গাঁজার হাল্কা ধোঁওয়া উপরে ওঠে। আর উপরেই কাঠবাঙাল রেল কলোনি পরিবারের মেজ বউয়ের রান্নাঘর। যে ফ্ল্যাটটায় আমরা ভাড়া থাকি সেটা তাদের পাওনা ছিল। কিন্তু মেজ ছেলের হতশ্রী ব্যাবসার অবস্থা আর স্টেশানের পাশেই বাংলার ঠেক টায় ঘন ঘন যাতায়াত দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পরিবারের কর্তা ঠিক করলেন যে ভাড়া দিয়ে কয়েক টা বাড়তি টাকা বাড়ি তে এলে ভালই, তদ্দিন নাহয় সো কলড একান্নবর্তী হয়েই থাকা যাক। এইসব কথা যদিও আমি ডিরেক্টলী শুনিনি। ওপরের বাড়ির বাচ্চা মেয়েটা আমার বোনের সাথে অঙ্ক করে। শুয়ে শুয়ে বাঁ দিকের জানলা দিয়ে দেখতে পাচ্ছিলাম বিকেল টা পাংশুটে, কিন্তু আমার মনে হচ্ছিলো আমার আসে পাশের প্রাইভেট ইউনিভারস টা উত্তর থেকে দক্ষিনে গাঢ় ভারমিলিয়ান থেকে শুরু করে বেগুলি অব্দি বিভিন্ন রঙের সংমিশ্রণে এক অপরিসীম পরিপূর্ণতা পেয়েছে।
আজকাল মানুষ একধরনের চৌকো বাক্স সঙ্গে নিয়ে জন্মায়, একটা আবস্ট্রাকট থ্রিডি বডী, যার প্রতি টা প্লেন এক একটা লিমিটেশান। শরীর টা বাড়তে থাকে তাদের কিন্তু বাক্সটার আয়তন আর বাড়ে না। আর তাদের সম্পূর্ণ বাচ্চাবেলা টাই কেটে যায় এই বাক্সের মধ্যে। কেউ কেউ বড় হয় বাক্সটার মধ্যেই, ইনার ওয়ালস গুলো রঙ করে সংসার পাতে, তাদের সুখ দুঃখ হাসি কান্না সব-ই বাক্সটার মধ্যেই চাপা পরে থাকে। তারপর প্রকৃতির নিয়মে আসে সন্তান সন্ততি। নিজেদের বাক্স গুলো নিয়ে। বাক্সের মধ্যে বাক্স জিওমেট্রিক্যাল প্রগ্রেশানে বাড়তে থাকে। শহরের মধ্যে শহর জন্ম নেয়, পাড়ার মধ্যে পাড়া, পরিবারের মধ্যে পরিবার, মানুষের মধ্যে মানুষ। সেই প্রতিটা খণ্ডের মধ্যে কানেক্টিং টিউবস থাকে সেগুলো আবার কিনা বেসিক আদানপ্রদান প্রক্রিয়া টাকেও ফিলটার করে। সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক প্রকাণ্ড অটোমেটেড সিস্টেম। চোখের সামনে ভাসতে থাকে নানান ইমেজারিস।
হঠাৎ ঘোর কেটে ফিরে এলাম সেই বিছানা, আলমারি, কম্পিউটার টেবিল এর মাঝখানে ছোটো জায়গাটায়, যেখানে গত চার ঘণ্টা ধরে দুটো হুইস্কি পাঁইট, গৌরভাঙ্গা থেকে স্কোর করা অফুরন্ত গাঁজা আর সামান্য কিছু শুকনো খাবার নিয়ে আমরা সাময়িক সংসার পেতেছিলাম।রাইয়ের তীব্র নিঃশ্বাস তখন ঠাণ্ডা হয়ে আসছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম সে তন্দ্রাছন্ন। যদিও পনেরো মিনিট আগে অব্দি, "প্লিজ আরেকটা জয়েন্ট বানা, প্লিজ প্লিজ, আই রিলি ডোন্ট ওয়ান্ট টু স্লীপ অফ নাও...' বলে যাচ্ছিলো। আমি তখনও ভয়ানক স্টোন্ড।
ফ্রিজের মধ্যে গোলমরিচ আর ভিনিগার দিয়ে সামান্য চিকেন ম্যারিনেট করে রাখা আছে। রাই বলেছিল ও এসে ডাল আর চিকেন টা বানাবে। যদিও ও হাতেগোনা চার-পাঁচটা রান্নাই পারে। তবে ওকে ঐটুকু ময়দান ছেড়ে দিতে আমি ভীষণ ভালবাসি।
প্রেম না করার বেশ কিছু সুবিধা আছে, তার মধ্যে একটা হল ইনকনসিসটেন্সি। এমনি কোন একদিন আমি আর রাই 'বিফোর' সিরিজের তিনটে সিনেমা টানা দেখে উঠে নিরবাক হয়ে বসেছিলাম। আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট খেয়ে ঘরে এসে 'জানিস তো..' বলে অনেক কিছু বলতে যাচ্ছিলাম, রাই আচমকাই ঝাঁপিয়ে পরে আমায় চুমু খেল। তারপর টানা দশ মিনিট ধরে সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের ভাষায় 'হাবড়ে চুমু খাওয়ার' পরও কোনোরকম অস্বচ্ছতা তৈরি হয়নি। তারপর আমরা রেল লাইন ধরে হেঁটে হেঁটে সেলিমপুর অব্দি গিয়ে ওকে বাসে উঠিয়ে দিয়ে এসেছি। যদিও পুরো হাঁটা রাস্তাটাই রাই নিঃশব্দই ছিল। আমিও ঘাঁটাইনি। আবার একদিন, রাই এর রাজারহাটের বিরাট ফাঁকা ফ্ল্যাটটায় নিউ-ইয়ারের পার্টির দিন সবার থেকে আলাদা করে এনে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করতেই রাই বিদ্যুৎগতিতে আমাকে বাধা দিল।
-ইউ আর আ ফাকিং মনস্টার!
সেদিন সারা রাত আমি দুলে বলে একটা ডিজেনারেটের সাথে বসে প্রচুর চরস আর বাংলা মদ খেয়ে শেষ রাতে নাড়ি উলটিয়ে বমি করে,পরদিন বিকেলে টলতে টলতে বাড়ি ফিরেছি।
রাই একটি বারও আমার পাশে এসে বসেনি। আমি আর রাই কে বোঝার চেষ্টাও করিনি।
আজকের দিনের অকালবোধন টা তাই ভীষণ জরুরি ছিল।
মা, কুটি আর স্যার বেড়াতে গেছে ৩ দিন হল। দু কামরার ভাড়া বাড়ি টা এখন আমার সাম্রাজ্য। মা-র রেখে যাওয়া টাকার অধিকাংশই শেষ। মেইনলি হুইস্কি আর চরস কিনে। গতমাসে শপাঁচেক ধার ছিল, গোটা চারেক বই কিনেছিলাম। সেগুলোরও খানিকটা শোধ করতে হয়েছে।
-শোন, 'স্যার' ডাক টা সাউন্ডস ভেরি উইয়ারড। কল হিম 'স্টেপ ফাদার'।
-বাজে কথা বলিস না তো। লাস্ট ৯ ঘণ্টা সোবার আছি। বাড়ি তে কোনো রান্না করা খাবার নেই। প্লিজ আয়?
-দেরি হবে কিন্তু। কিছু একটা খা ততক্ষণ।
-হোক দেরি। জাস্ট আয়।
খুব সন্তর্পণে হাতড়ে হাতড়ে সিগারেটের প্যাকেট টা খুঁজে বের করে হঠাৎ খেয়াল করলাম সন্ধে হয়ে গেছে। রাইয়ের শরীর টা প্রায় অন্ধকারে অদৃশ্য।আমার বাঁ হাতের উপর রাইয়ের ছোট্ট মাথা, খেয়াল করে দেখলাম রাই হাঁ করে ঘুমায়। যাদের রেস্পিরেটরি ট্র্যাকে ব্লকেজ থাকে তারা হাঁ করে ঘুমায়। শি শুড রিয়েলি রিডিউস স্মোকিং।
সিগারেট জ্বালাবার শব্দেই চোখ খুলে বাঁ দিকে ফিরে শুয়ে রাই বলল, 'হ্যাভ ইউ এভার বিন টু আরুনাচাল?'
আমি মা আর কুটির সাথে এই ভাড়া বারিতে উঠে আসার আগে আরও একটু দক্ষিনে একটা ছিমছাম দুতলা বাড়িতে থাকতাম। জন্ম, স্কুল, প্রথম প্রেম, চুমু, কলেজ, সিগারেট, মাইন্ড অল্টারিং কেমিক্যাল, বাবা মার বিচ্ছেদ সব-ই এ শহরেই। ভীষণ ম্যাগনেটিক কোন পদার্থও তার ইন্টেনসিটি হারায় অচিরেই। হঠাৎ মনে হল আমি এই শহর টা এই মুহূর্তে ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যে সব রকম ভাবে প্রস্তুত।
আই ওয়াজ লেট। আমার উত্তর না পেয়ে রাই সটান উঠে এদিক ওদিকে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন স্তরের পোশাকগুলো জড় করে বাথরুমে ঢুকে গেল, আমাকে কোনোরকম ভাবে রি অ্যাক্ট করার সুযোগ না দিয়েই।
আমার হঠাৎ মনে হল আমি উলঙ্গ হয়ে কলকাতার কোন প্রচন্ড ব্যাস্ত চারমাথার ক্রসিং-এ দাঁড়িয়ে আছি। রাস্তা দিয়ে অন্য মনস্ক ভাবে হেঁটে যেতে যেতে যে সমস্ত মুখ গুলো আমাদের চারপাশে ফিকে রঙের মত আনইম্পরট্যান্ট সাবজেক্টিভ কন্টেন্ট হয়েই থেকে যায় তারা আজ আমাকে দেখে উদ্বাহু হয়ে ভাসানের নাচ নাচছে, চিৎকার করে নানান অজানা ভাষায় আমাকে উদ্দেশ করে সম্ভবত গালি-ই দিচ্ছে। এই ভিড়ের মধ্যে থেকে এক টা বাচ্চা ছেলে এগিয়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরল, যার মুখের আদল হুবহু আমার ছেলেবেলাকার। তার বজ্রআলিঙ্গন আমার দম বন্ধ করিয়ে দিচ্ছে, আমার সারা শরীর ঘাম এ ভেজা, বাচ্ছাটি হোহো করে হেসেই যাচ্ছে... হাসির সব্দ...স্যার...স্যারের মত।
-দ্বৈপা!
সম্বিত ফিরে পেয়ে দেখলাম আমি খাটে বসে আছি, ল্যাংটো, সিগারেট টা হাতেই পুড়ছে।
- ইউ শুড রিয়েলি কাম টু ভালুকপং ওয়ান্স, দ্য প্লেস আই ওয়াজ বর্ণ।
বাথরুম থেকে শাওয়ারের শব্দ। আমি আস্তে আস্তে এগিয়ে গেলাম সেই দিকেই।
পেটের মধ্যে গজগজ করছে সস্তা হুইস্কি, আধা ঘণ্টা আগে টানা শেষ জয়েন্ট টার ধোঁওয়া টা এখন আর্কিমিডিয়ান স্পাইরাল হয়ে বন্ধ সীলিং ফ্যানটার কাছে থমকিয়ে আছে। সেপ্টেম্বরের লিকুইফায়েড গরমেও পাখা না চালানোর দুটো কারন। এক, মোবাইলের দুর্বল স্পিকারে 'অ্যাটম হার্ট মাদার' চলছিলো, ফ্যানের যান্ত্রিক শব্দ টা এড়ানোর চেষ্টা টা নিতান্তই জাস্টিফায়েড। দুই, গাঁজা গরম কম লাগায়। ভাড়া বাড়ি টার বারান্দায় জয়েন্ট টা মারতে ভয় ভয়-ই লাগছিলো, কারন গাঁজার হাল্কা ধোঁওয়া উপরে ওঠে। আর উপরেই কাঠবাঙাল রেল কলোনি পরিবারের মেজ বউয়ের রান্নাঘর। যে ফ্ল্যাটটায় আমরা ভাড়া থাকি সেটা তাদের পাওনা ছিল। কিন্তু মেজ ছেলের হতশ্রী ব্যাবসার অবস্থা আর স্টেশানের পাশেই বাংলার ঠেক টায় ঘন ঘন যাতায়াত দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পরিবারের কর্তা ঠিক করলেন যে ভাড়া দিয়ে কয়েক টা বাড়তি টাকা বাড়ি তে এলে ভালই, তদ্দিন নাহয় সো কলড একান্নবর্তী হয়েই থাকা যাক। এইসব কথা যদিও আমি ডিরেক্টলী শুনিনি। ওপরের বাড়ির বাচ্চা মেয়েটা আমার বোনের সাথে অঙ্ক করে। শুয়ে শুয়ে বাঁ দিকের জানলা দিয়ে দেখতে পাচ্ছিলাম বিকেল টা পাংশুটে, কিন্তু আমার মনে হচ্ছিলো আমার আসে পাশের প্রাইভেট ইউনিভারস টা উত্তর থেকে দক্ষিনে গাঢ় ভারমিলিয়ান থেকে শুরু করে বেগুলি অব্দি বিভিন্ন রঙের সংমিশ্রণে এক অপরিসীম পরিপূর্ণতা পেয়েছে।
আজকাল মানুষ একধরনের চৌকো বাক্স সঙ্গে নিয়ে জন্মায়, একটা আবস্ট্রাকট থ্রিডি বডী, যার প্রতি টা প্লেন এক একটা লিমিটেশান। শরীর টা বাড়তে থাকে তাদের কিন্তু বাক্সটার আয়তন আর বাড়ে না। আর তাদের সম্পূর্ণ বাচ্চাবেলা টাই কেটে যায় এই বাক্সের মধ্যে। কেউ কেউ বড় হয় বাক্সটার মধ্যেই, ইনার ওয়ালস গুলো রঙ করে সংসার পাতে, তাদের সুখ দুঃখ হাসি কান্না সব-ই বাক্সটার মধ্যেই চাপা পরে থাকে। তারপর প্রকৃতির নিয়মে আসে সন্তান সন্ততি। নিজেদের বাক্স গুলো নিয়ে। বাক্সের মধ্যে বাক্স জিওমেট্রিক্যাল প্রগ্রেশানে বাড়তে থাকে। শহরের মধ্যে শহর জন্ম নেয়, পাড়ার মধ্যে পাড়া, পরিবারের মধ্যে পরিবার, মানুষের মধ্যে মানুষ। সেই প্রতিটা খণ্ডের মধ্যে কানেক্টিং টিউবস থাকে সেগুলো আবার কিনা বেসিক আদানপ্রদান প্রক্রিয়া টাকেও ফিলটার করে। সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক প্রকাণ্ড অটোমেটেড সিস্টেম। চোখের সামনে ভাসতে থাকে নানান ইমেজারিস।
হঠাৎ ঘোর কেটে ফিরে এলাম সেই বিছানা, আলমারি, কম্পিউটার টেবিল এর মাঝখানে ছোটো জায়গাটায়, যেখানে গত চার ঘণ্টা ধরে দুটো হুইস্কি পাঁইট, গৌরভাঙ্গা থেকে স্কোর করা অফুরন্ত গাঁজা আর সামান্য কিছু শুকনো খাবার নিয়ে আমরা সাময়িক সংসার পেতেছিলাম।রাইয়ের তীব্র নিঃশ্বাস তখন ঠাণ্ডা হয়ে আসছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম সে তন্দ্রাছন্ন। যদিও পনেরো মিনিট আগে অব্দি, "প্লিজ আরেকটা জয়েন্ট বানা, প্লিজ প্লিজ, আই রিলি ডোন্ট ওয়ান্ট টু স্লীপ অফ নাও...' বলে যাচ্ছিলো। আমি তখনও ভয়ানক স্টোন্ড।
ফ্রিজের মধ্যে গোলমরিচ আর ভিনিগার দিয়ে সামান্য চিকেন ম্যারিনেট করে রাখা আছে। রাই বলেছিল ও এসে ডাল আর চিকেন টা বানাবে। যদিও ও হাতেগোনা চার-পাঁচটা রান্নাই পারে। তবে ওকে ঐটুকু ময়দান ছেড়ে দিতে আমি ভীষণ ভালবাসি।
প্রেম না করার বেশ কিছু সুবিধা আছে, তার মধ্যে একটা হল ইনকনসিসটেন্সি। এমনি কোন একদিন আমি আর রাই 'বিফোর' সিরিজের তিনটে সিনেমা টানা দেখে উঠে নিরবাক হয়ে বসেছিলাম। আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট খেয়ে ঘরে এসে 'জানিস তো..' বলে অনেক কিছু বলতে যাচ্ছিলাম, রাই আচমকাই ঝাঁপিয়ে পরে আমায় চুমু খেল। তারপর টানা দশ মিনিট ধরে সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের ভাষায় 'হাবড়ে চুমু খাওয়ার' পরও কোনোরকম অস্বচ্ছতা তৈরি হয়নি। তারপর আমরা রেল লাইন ধরে হেঁটে হেঁটে সেলিমপুর অব্দি গিয়ে ওকে বাসে উঠিয়ে দিয়ে এসেছি। যদিও পুরো হাঁটা রাস্তাটাই রাই নিঃশব্দই ছিল। আমিও ঘাঁটাইনি। আবার একদিন, রাই এর রাজারহাটের বিরাট ফাঁকা ফ্ল্যাটটায় নিউ-ইয়ারের পার্টির দিন সবার থেকে আলাদা করে এনে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করতেই রাই বিদ্যুৎগতিতে আমাকে বাধা দিল।
-ইউ আর আ ফাকিং মনস্টার!
সেদিন সারা রাত আমি দুলে বলে একটা ডিজেনারেটের সাথে বসে প্রচুর চরস আর বাংলা মদ খেয়ে শেষ রাতে নাড়ি উলটিয়ে বমি করে,পরদিন বিকেলে টলতে টলতে বাড়ি ফিরেছি।
রাই একটি বারও আমার পাশে এসে বসেনি। আমি আর রাই কে বোঝার চেষ্টাও করিনি।
আজকের দিনের অকালবোধন টা তাই ভীষণ জরুরি ছিল।
মা, কুটি আর স্যার বেড়াতে গেছে ৩ দিন হল। দু কামরার ভাড়া বাড়ি টা এখন আমার সাম্রাজ্য। মা-র রেখে যাওয়া টাকার অধিকাংশই শেষ। মেইনলি হুইস্কি আর চরস কিনে। গতমাসে শপাঁচেক ধার ছিল, গোটা চারেক বই কিনেছিলাম। সেগুলোরও খানিকটা শোধ করতে হয়েছে।
-শোন, 'স্যার' ডাক টা সাউন্ডস ভেরি উইয়ারড। কল হিম 'স্টেপ ফাদার'।
-বাজে কথা বলিস না তো। লাস্ট ৯ ঘণ্টা সোবার আছি। বাড়ি তে কোনো রান্না করা খাবার নেই। প্লিজ আয়?
-দেরি হবে কিন্তু। কিছু একটা খা ততক্ষণ।
-হোক দেরি। জাস্ট আয়।
খুব সন্তর্পণে হাতড়ে হাতড়ে সিগারেটের প্যাকেট টা খুঁজে বের করে হঠাৎ খেয়াল করলাম সন্ধে হয়ে গেছে। রাইয়ের শরীর টা প্রায় অন্ধকারে অদৃশ্য।আমার বাঁ হাতের উপর রাইয়ের ছোট্ট মাথা, খেয়াল করে দেখলাম রাই হাঁ করে ঘুমায়। যাদের রেস্পিরেটরি ট্র্যাকে ব্লকেজ থাকে তারা হাঁ করে ঘুমায়। শি শুড রিয়েলি রিডিউস স্মোকিং।
সিগারেট জ্বালাবার শব্দেই চোখ খুলে বাঁ দিকে ফিরে শুয়ে রাই বলল, 'হ্যাভ ইউ এভার বিন টু আরুনাচাল?'
আমি মা আর কুটির সাথে এই ভাড়া বারিতে উঠে আসার আগে আরও একটু দক্ষিনে একটা ছিমছাম দুতলা বাড়িতে থাকতাম। জন্ম, স্কুল, প্রথম প্রেম, চুমু, কলেজ, সিগারেট, মাইন্ড অল্টারিং কেমিক্যাল, বাবা মার বিচ্ছেদ সব-ই এ শহরেই। ভীষণ ম্যাগনেটিক কোন পদার্থও তার ইন্টেনসিটি হারায় অচিরেই। হঠাৎ মনে হল আমি এই শহর টা এই মুহূর্তে ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যে সব রকম ভাবে প্রস্তুত।
আই ওয়াজ লেট। আমার উত্তর না পেয়ে রাই সটান উঠে এদিক ওদিকে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন স্তরের পোশাকগুলো জড় করে বাথরুমে ঢুকে গেল, আমাকে কোনোরকম ভাবে রি অ্যাক্ট করার সুযোগ না দিয়েই।
আমার হঠাৎ মনে হল আমি উলঙ্গ হয়ে কলকাতার কোন প্রচন্ড ব্যাস্ত চারমাথার ক্রসিং-এ দাঁড়িয়ে আছি। রাস্তা দিয়ে অন্য মনস্ক ভাবে হেঁটে যেতে যেতে যে সমস্ত মুখ গুলো আমাদের চারপাশে ফিকে রঙের মত আনইম্পরট্যান্ট সাবজেক্টিভ কন্টেন্ট হয়েই থেকে যায় তারা আজ আমাকে দেখে উদ্বাহু হয়ে ভাসানের নাচ নাচছে, চিৎকার করে নানান অজানা ভাষায় আমাকে উদ্দেশ করে সম্ভবত গালি-ই দিচ্ছে। এই ভিড়ের মধ্যে থেকে এক টা বাচ্চা ছেলে এগিয়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরল, যার মুখের আদল হুবহু আমার ছেলেবেলাকার। তার বজ্রআলিঙ্গন আমার দম বন্ধ করিয়ে দিচ্ছে, আমার সারা শরীর ঘাম এ ভেজা, বাচ্ছাটি হোহো করে হেসেই যাচ্ছে... হাসির সব্দ...স্যার...স্যারের মত।
-দ্বৈপা!
সম্বিত ফিরে পেয়ে দেখলাম আমি খাটে বসে আছি, ল্যাংটো, সিগারেট টা হাতেই পুড়ছে।
- ইউ শুড রিয়েলি কাম টু ভালুকপং ওয়ান্স, দ্য প্লেস আই ওয়াজ বর্ণ।
বাথরুম থেকে শাওয়ারের শব্দ। আমি আস্তে আস্তে এগিয়ে গেলাম সেই দিকেই।
No comments:
Post a Comment