(১)
"এই সময় টা বড় ভাঙ্গাচোরার। মানুষ বুঝেই উঠছে না যে কোনদিকে যাবে। নিও-কন্স্যুমারিস্যম না ট্রেডিশানাল ভ্যালুস। এই সময় ভাল সাহিত্য, গান, কবিতা, সিনেমা হয় না। হতে পারে না। মানুষ দুটো সময় পোঁদ ফাটিয়ে লেখে : (১) যখন ধ্বংসের মুখোমুখি হয়। (২) যখন সুসময় বিরাজ করে। আর্ট ফর দ্য সেক অফ আর্ট। এছাড়া হয় না। তাই এইসময় টা যাই লেখ না কেন তার মূল্য ৫ বছর পর আর থাকবে না। তাই, পড়। শুধুই পড় এখন।"
দ্যাটস হোয়াট মাই ফাদার টেলস মি।
সে যাই হোক। আমার মনে হয় পৃথিবীর যত বয়স বাড়বে, ভাবনার জগতে যত ডাইলিউশান আসবে, প্রযুক্তি যত উন্নত হবে, জীবন যত ক্যাপিটালিস্ট মনভাবাপন্নতায় আচ্ছন্ন আর ইচ্ছের ডাইরেকশান যত মেটিরিয়ালিস্টিক হবে মানুষ তত এই বাই-পোলারিটির গোলোকধাঁধায় চক্রাকারে ঘুরে ঘুরে মেশিন হয়ে যেতে থাকবে, যার দুটো মাত্র স্টেট। অন আর অফ।
(২)
যখন এইসব আলবাল চিন্তা আমার মাথায় ঘুরছিল তখন আমি মিছিল-ফেরত যাদবপুর রেল-কলোনীতে গোবিন্দ দার চায়ের দোকানে কজন বন্ধুর সাথে। মিছিল তো না, মহামিছিল। কেউ বলছে লাখ, কেউ বলছে চল্লিশ হাজার। আমিও এক-দুবার ভেবেছিলাম যে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে এলাম কিনা। তারপর অন্যরকম কাজে ব্যাস্ত হয়ে পরে আর আমল দিই নি।
গোবিন্দ দার চায়ের দোকান কিন্তু বহু ইতিহাসের সাক্ষী। এখানে চেয়ার গরম করে গেছেন বহু বুদ্ধিজীবী, এক্স-নকশাল, এক্স-পি.এল.টি, সিপিএম, তৃণমূল, কংগ্রেস, শিক্ষক, আঁকিয়ে, ছাত্র, লেখক, প্রেমিক, তার্কিক এবং জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বহু সাধারন চাকুরীজীবী ও বেকার। চায়ের দোকান এই দু হাজার চোদ্দ তেও সবরকম ভাবে স্যানেটোরিয়াম, থিঙ্কারস ক্লাব আর একটা সাময়িক এস্কেপ। পায়ের তলায় গুটিয়ে রাখা আছে জলে ভেজা কিছু পোষ্টার। কয়েকটা পোষ্টার যদিও আমরা মেয়ো রোড আর পার্ক স্ট্রিটের ক্রসিং এ ফেলে রেখে এসেছিলাম। যখন কলকাতার হৃদপিণ্ড স্তব্ধ হয়ে গেছিলো ছাত্র ব্যারিকেডে। ড্রাগনের মুখটা যখন রাজভবনের সামনে তখন লেজ টা এক্সাইডের বাইরে আছড়ে পড়ছে।
বহিরাগত আমরা। পইপই করে নিজেদের কলেজের বাচ্ছাদের বলেছিলাম, ভিসি আর কলেজভিত্তিক স্লোগান আর পোষ্টার না করে অ্যান্টি-এস্ট্যাবলিশমেন্ট টাকে ফুটিয়ে তোল। প্রটেস্ট এগেন্সট দ্য সিস্টেম হুইচ ইন্সটিগেটেড দ্য পুলিস ব্রুটালিটি। যারা গুন্ডা দিয়ে ছাত্র ক্যালায় তাদের জোর গলায় ফ্যাসিস্ট বলে চিহ্নিত কর। ভিসি তো ওদেরই শত শুঁড়ওয়ালা সিস্টেমের একটা লোয়ার এন্ড। কান টেনে মাথা আনার চেয়ে ডিরেক্ট হেড-সট। তবে এই সময় টা তো আর মুক্তির দশক না। বসন্তের বজ্রনির্ঘোষও শোনা যাচ্ছে না। হাজার হাজার ছাত্র কোন সিম্বল, ব্যানার, স্বার্থ ছাড়াই যে আন্দোলনের শরীক হল, তাতে আলাদা করে তো চিন-ভিয়েতনাম থেকে বারুদ আমদানি করতে হয়না, শুধু যদি... শুধু যদি...
পৎ পৎ পৎ পৎ
পৎ পৎ পৎ পৎ
পৎ পৎ পৎ পৎ ...
পৎ পৎ পৎ পৎ
পৎ পৎ পৎ পৎ
পৎ পৎ পৎ পৎ ...
(৩)
- ইঁদুর দের ইতিহাস যেমনি দারুন গৌরবান্বিত আর তেমনি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। আফ্রিকার জঙ্গলেই হোক বা বলিভিয়ার, যখনি বুনো বেড়াল বেড়ে যায় তখনি তারা জোট বেঁধে ঘুরে দাঁড়ায়। কিন্তু ইঁদুর মানেই তো আর নর্মাল ইঁদুর না। সাদা, কালো, নেংটি, ধেড়ে, ধেনো, বাদামী, মেটে সব রকম ইদুরের নিজস্বতা আছে। সমশ্রেণীভুক্ত মানেই সারসার জলপাই জামা পড়া স্ট্রেট-ফেস সেনাবাহিনী তো নয়। সাদা ইঁদুর যদি কাঠ গুঁড়োয় গড়াগড়ি খেতে ভালবাসে তাহলে ধেনো ইঁদুর রোজ রাজে ধানক্ষেতের ধারে নিজের গর্তে শুয়ে পিঙ্ক ফ্লয়েড শোনে। তাই তারা যদি একসাথে মিলে কোন একদিন বেড়াল খাবে বলে ঠিক করে তাহলে তাদের এই সুপারফিসিয়াল ডিফারেন্সগুলো ওভারকাম করতে হবে। সেইজন্যেই তো কদম কদম বড়ায়ে যা... সেইজন্যেই তো লেফট রাইট লেফট... আর তার থেকেও বড় কথা তার জন্যে এক বা একাধিক ধেড়ে ইদুরকে ভ্যানগার্ডে দাঁড়াতে হবে। ম্যান্স রেইডার এমনি এমনি সবকটা ওয়াইল্ডলিং কে জড় করে বিশাল বাহিনি বানায়নি। সে তাদের রিয়ালিটি চেক দিয়েছিলো, যে এরপর যখন শীত আসবে তখন ওয়ালের ভেতরে চলে আসতে না পারলে সমূহ বিপদ।
- আরে, এটা একটা স্পন্টেনিয়াস মুভমেন্ট, এটা লিডারলেস, সবাই চেয়েছিল এটা হোক। অ্যান্ড ইটস জাস্ট হ্যাপেনিং। এতে কোন রাজনীতির গন্ধ নেই।
- শেষবার যখন এরকমটা হয়েছিল তখন এই আন্দোলন টার নামছিল ফ্রেঞ্চ রেভলিউশান। আর সেটা সম্পর্কে তো আমরা সবাই জানি। তবে হ্যাঁ, সেক্ষেত্রে সমগ্র জনগন সেটাতে সামিল ছিল আর এক্ষেত্রে শুধু ছাত্ররা। কিছু ব্যাবসায়ী, যাদের আমরা বুদ্ধিজীবি বলে চিনি তারা আর কিছু শিক্ষাবিদ ছাড়া বাকি এন্টায়ার মধ্যবয়েসি, বুড়ো বুড়ি আর বাকি এজ গ্রুপ কিন্তু এখন এবিপি আনন্দতে আটকে আছে। অ্যাটলিস্ট আশি শতাংশ।
- কি জানি বাবা। আমাদের সময় হলে তো এতক্ষণে লাশ পরে যেত কত। পোষ্টারে পোষ্টারে দেওয়াল ছেয়ে যেত।
- পোষ্টার তো পড়ছে দাদু, দেখছো না? এখনও খুবই কন্সট্রিক্টেড জায়গায়, কিন্তু পড়ছে। দেওয়াল আঁকা হচ্ছে। লেখালিখি তে ওয়েবস্পেস ভর্তি।
- এইজন্যেই এই জেনারেশানটার আলটিমেটলি কিছু হবে না। সারাদিন আন্দোলন, অবস্থান করে রাতে বাড়ি এসে ফেসবুক করলে আর কি করে হবে?
- স্যার, এই মুহূর্তে ফ্রান্স, লিবিয়া, বাংলাদেশ এই সব কটা সোসিও-পলিটিক্যাল মুভমেন্টে কিন্তু ফেসবুকের হাত কম নেই। সোস্যাল মিডিয়া একটা বড় অস্ত্র।
- আরে, এটা একটা স্পন্টেনিয়াস মুভমেন্ট, এটা লিডারলেস, সবাই চেয়েছিল এটা হোক। অ্যান্ড ইটস জাস্ট হ্যাপেনিং। এতে কোন রাজনীতির গন্ধ নেই।
- শেষবার যখন এরকমটা হয়েছিল তখন এই আন্দোলন টার নামছিল ফ্রেঞ্চ রেভলিউশান। আর সেটা সম্পর্কে তো আমরা সবাই জানি। তবে হ্যাঁ, সেক্ষেত্রে সমগ্র জনগন সেটাতে সামিল ছিল আর এক্ষেত্রে শুধু ছাত্ররা। কিছু ব্যাবসায়ী, যাদের আমরা বুদ্ধিজীবি বলে চিনি তারা আর কিছু শিক্ষাবিদ ছাড়া বাকি এন্টায়ার মধ্যবয়েসি, বুড়ো বুড়ি আর বাকি এজ গ্রুপ কিন্তু এখন এবিপি আনন্দতে আটকে আছে। অ্যাটলিস্ট আশি শতাংশ।
- কি জানি বাবা। আমাদের সময় হলে তো এতক্ষণে লাশ পরে যেত কত। পোষ্টারে পোষ্টারে দেওয়াল ছেয়ে যেত।
- পোষ্টার তো পড়ছে দাদু, দেখছো না? এখনও খুবই কন্সট্রিক্টেড জায়গায়, কিন্তু পড়ছে। দেওয়াল আঁকা হচ্ছে। লেখালিখি তে ওয়েবস্পেস ভর্তি।
- এইজন্যেই এই জেনারেশানটার আলটিমেটলি কিছু হবে না। সারাদিন আন্দোলন, অবস্থান করে রাতে বাড়ি এসে ফেসবুক করলে আর কি করে হবে?
- স্যার, এই মুহূর্তে ফ্রান্স, লিবিয়া, বাংলাদেশ এই সব কটা সোসিও-পলিটিক্যাল মুভমেন্টে কিন্তু ফেসবুকের হাত কম নেই। সোস্যাল মিডিয়া একটা বড় অস্ত্র।
- কিন্তু কাজের কাজ কি হচ্ছে? তৃণমূল সরকার তো সেই কিনেই নিল। জাজ কিনল, মেয়েটার বাবা কে কিনে মিথ্যা বলালো কামদুনি মডেলে। বিরোধীরা যত পারছে ক্যাশ করছে, যে যেভাবে পারছে এটা নিয়ে একটু ব্যাবসা করে নিচ্ছে। এইভাবে হবে কিছু?
- প্রতিটা আন্দোলনের একটা ইল্ড পয়েন্ট হয়। সেটা হচ্ছে এই যে জেনারেশানটা, মানে আমাদের কথা, আমরা যখন আপনাদের জায়গায় আসব তখন কি তৃণমূল একটাও ভোট পাবে? গণতান্ত্রিক ভাবেই সেই তো পরিবর্তন হবেই। লাশ ফেলতে গেলে অনেক কোল্যাটেরাল ড্যামেজ হয়। নিরীহ মানুষ বেশি মরে। তৃণমূল এমনিতেও যাবে। সারদাই ওদের পোঁদ টা মেরে দেবে।
এর মধ্যে কিন্তু বিস্কুটের কৌটো টা খুলেও গ্যাছে। যে খুলেছে সে সবাইকে দারুন খুশি হয়ে বিস্কুটের হরিরলুট দিচ্ছে। কিন্তু আমার মনে হল ছেলে-বুড়ো সব্বার হাতের অল্প অল্প চাড়েই আলটিমেটলি সেই শতাব্দী প্রাচীন জট খুলেছে। সায়ন আমার হাতে দুটো নেড়ো গুঁজে দিয়ে বলল, 'ভাই, বিস্কিটস অল অ্যারাউন্ড!বিস্কিটস অল অ্যারাউন্ড!''। হোক কলরব!
- প্রতিটা আন্দোলনের একটা ইল্ড পয়েন্ট হয়। সেটা হচ্ছে এই যে জেনারেশানটা, মানে আমাদের কথা, আমরা যখন আপনাদের জায়গায় আসব তখন কি তৃণমূল একটাও ভোট পাবে? গণতান্ত্রিক ভাবেই সেই তো পরিবর্তন হবেই। লাশ ফেলতে গেলে অনেক কোল্যাটেরাল ড্যামেজ হয়। নিরীহ মানুষ বেশি মরে। তৃণমূল এমনিতেও যাবে। সারদাই ওদের পোঁদ টা মেরে দেবে।
(৪)
গোবিন্দদা অনেকক্ষণ একটা খাস্তা বিস্কুটের কৌটো খুলতে পারছিলো না। সেটাই সবাই হাতে হাতে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চেষ্টা করছিলো খোলার।
খুব ছোটবেলায় আমাদের একজন স্যার একটা নাটক করিয়েছিলেন, যার মূল বক্তব্য ছিল এরকম যে, একটা গ্রামের প্রান্তে একটা বাঘ গ্রামবাসীদের ওপর খুবই দাদাগিরি দেখায়, প্রতি অমাবস্যায় তাকে একটি করে জ্যান্ত মানুষ ভেট দিতে হয়, নাহলেই সে নানারকম অত্যাচার করে। জেই চেষ্টা করে বাঘ টার লাশ ফেলার সেই আর ফিরে আসেনা গ্রামে। নাটকের প্রোটাগনিস্ট চলে বাঘ মারতে তার বাপ-মা, লাভ-ইন্টারেস্ট সব্বার শত বারণ উপেক্ষা করে এবং বাঘ টাকে মেরেও ফ্যালে। কিন্তু মারার পরমুহূর্তেই সে দেখল তার গায়ে ডোরা কাটা দাগ আর তার দাঁত নখে আদীম শক্তির নির্যাস। তার পর সে গুহার বাইরে বেরিয়ে এসে বজ্রহুঙ্কারে সেই প্রাচীন অভিশাপের অস্তিত্বর কথা মনে করিয়ে দেয়। মানে টা ইন্টারপ্রেট করাও বেশ সহজ।
"মাউন্টব্যাটন সাহেব ও/তোমার সাধের ব্যাটন কার হাতে তুইল্যা দিলা গো?"
এর মধ্যে কিন্তু বিস্কুটের কৌটো টা খুলেও গ্যাছে। যে খুলেছে সে সবাইকে দারুন খুশি হয়ে বিস্কুটের হরিরলুট দিচ্ছে। কিন্তু আমার মনে হল ছেলে-বুড়ো সব্বার হাতের অল্প অল্প চাড়েই আলটিমেটলি সেই শতাব্দী প্রাচীন জট খুলেছে। সায়ন আমার হাতে দুটো নেড়ো গুঁজে দিয়ে বলল, 'ভাই, বিস্কিটস অল অ্যারাউন্ড!বিস্কিটস অল অ্যারাউন্ড!''। হোক কলরব!