তপ্ত গ্রীষ্মের মধ্যরাত্রিী। দক্ষিনি মাতাল হাওয়া যেন স্বজন হারানোর যন্ত্রণাও ভুলিয়ে দেয়। অন্দরমহলের দরজা সন্তর্পণে ভেজিয়ে দিয়ে মহারাজ বিশ্বেশ্বরে এক গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তিনি প্রৌঢ়, ক্লান্তি তাঁর নিত্যসঙ্গী।
অলিন্দের উপর কালো কাঠের হেলানো চেয়ার টায় বসলেন। এইটি তাঁর বাবার সময়কার আসবাব। তাঁদের দেশে এমন কাঠের কাজ হয়না। তাঁদের রাজধানী থেকে বহু যোজন দূরে পাহারের কোলে বৌদ্ধদের রাজ্যের সাথে একটানা পঁচিশ বছর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর গঙ্গার ধারে সন্ধিসুত্র সইসাবুদ করা হয়। ভেট হিসেবে আর অনেক কিছুর সাথে এই চেয়ারটিও এসেছিলো। মহারাজের বাবা, যিনি বন্যার জলে ভেসে আসা সাতচল্লিশটি পরিবার নিয়ে মোতিহারের এর পাড়ে রাজ্যপত্তন করেন, তিনিও মৃত্যুর আগে আগে এই চেয়ারে সারারাত বসে থাকতেন, রাতে তাঁর ঘুম আসত না। যৌবন থেকেই তাঁর ঘুম পাতলা ছিল। রাজবৈদ্য ক্ষিতিপাল বলেছিলেন, "মহারাজ, যারা দিনে ঘুমায়, রাতে জাগে, চিন্তা করে আগে আগে, তাদের আয়ু কমে যায়। আপনি-ই আমাদের মা বাপ। আপনি বরং সন্ধের পর দুধ-আফিম খেয়ে ঘুমাবেন।" শেষ বয়েসে আফিমের নেশা তাকে বিরক্ত করে দিত। কথায় কথায় খিটখিট করতেন। তারপর একদিন বিশ্বেশ্বর গুরুমশায়ের কাছে বসে ন্যায়শাস্ত্র পরছেন তখন প্রতিহারী এসে খবর দিল মহারাজ মুখে দই তুলে মারা গেছেন।
মহারাজ বিশ্বেশ্বর একবার ভাবলেন হয়ত এবার তাঁরও মৃত্যু সমাগত। তারপর ভাবলেন আহা কি শান্তিতেই না প্রজারা এখন ঘুমিয়ে আছে! মৃত্যু কি সত্যি-ই ভয়ঙ্কর? নাকি বন্ধুবৎসল?
মহারাজ নিত্যানন্দ মারা যান তিন সন্তান রেখে, বীরভদ্র, বিশ্বেশ্বর ও পার্বতী। নিত্যানন্দের বাবা ছিলেন বৈষ্ণব। ভাগীরথীর পাড়ে তাঁর আশ্রম ছিল। সুখে থাকতেন তিনি তাঁর তিন সাধনসঙ্গী আর পাঁচ সন্তান নিয়ে।
নিত্যানন্দ তখন কিশোর, তিনি দেখলেন এক গেরুয়া কাপড় পরা মুণ্ডিতমস্তক বিদেশী, গ্রামের প্রান্তে রাস্তায় পড়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। তাঁর শরীরে কোন ক্ষত নেই কিন্তু দেখেই বোঝা যায় সে রোগজীর্ণ। তিনি কাছে গিয়ে সাহায্যের চেষ্টা করতেই বিদেশী এক দিব্য হাসি হেসে তার কানেকানে ফিসফিস করে বললেন, "কলাবতীর দেশ, মোতির ফুল, ঢোল-ডগর...একটু জল...", তারপরেই সে গরল কালো রক্তবমি করতে করতে বলতে থাকলে, "যাইও বাবা...যাইও"।
আশ্রমে নিয়ে আসার পড় নিত্যানন্দের বাবা তাকে পরিক্ষা করে বললেন, "এ বড় খারাপ ধরনের কর্কট বাবা, ইনি বাঁচবেন না, আজই এনার শেষ রাত।"
শেষরাত্রে বিদেশী আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে চীৎকার করে বলল, "মুক্তি", তারপরেই তাঁর মৃত্যু হল।
পরদিন সকালে নিত্যানন্দ মা-বাপের চোখের জলে বিদায় নিয়ে দেশ ভ্রমনে বেরলেন।
অলিন্দের উপর কালো কাঠের হেলানো চেয়ার টায় বসলেন। এইটি তাঁর বাবার সময়কার আসবাব। তাঁদের দেশে এমন কাঠের কাজ হয়না। তাঁদের রাজধানী থেকে বহু যোজন দূরে পাহারের কোলে বৌদ্ধদের রাজ্যের সাথে একটানা পঁচিশ বছর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর গঙ্গার ধারে সন্ধিসুত্র সইসাবুদ করা হয়। ভেট হিসেবে আর অনেক কিছুর সাথে এই চেয়ারটিও এসেছিলো। মহারাজের বাবা, যিনি বন্যার জলে ভেসে আসা সাতচল্লিশটি পরিবার নিয়ে মোতিহারের এর পাড়ে রাজ্যপত্তন করেন, তিনিও মৃত্যুর আগে আগে এই চেয়ারে সারারাত বসে থাকতেন, রাতে তাঁর ঘুম আসত না। যৌবন থেকেই তাঁর ঘুম পাতলা ছিল। রাজবৈদ্য ক্ষিতিপাল বলেছিলেন, "মহারাজ, যারা দিনে ঘুমায়, রাতে জাগে, চিন্তা করে আগে আগে, তাদের আয়ু কমে যায়। আপনি-ই আমাদের মা বাপ। আপনি বরং সন্ধের পর দুধ-আফিম খেয়ে ঘুমাবেন।" শেষ বয়েসে আফিমের নেশা তাকে বিরক্ত করে দিত। কথায় কথায় খিটখিট করতেন। তারপর একদিন বিশ্বেশ্বর গুরুমশায়ের কাছে বসে ন্যায়শাস্ত্র পরছেন তখন প্রতিহারী এসে খবর দিল মহারাজ মুখে দই তুলে মারা গেছেন।
মহারাজ বিশ্বেশ্বর একবার ভাবলেন হয়ত এবার তাঁরও মৃত্যু সমাগত। তারপর ভাবলেন আহা কি শান্তিতেই না প্রজারা এখন ঘুমিয়ে আছে! মৃত্যু কি সত্যি-ই ভয়ঙ্কর? নাকি বন্ধুবৎসল?
মহারাজ নিত্যানন্দ মারা যান তিন সন্তান রেখে, বীরভদ্র, বিশ্বেশ্বর ও পার্বতী। নিত্যানন্দের বাবা ছিলেন বৈষ্ণব। ভাগীরথীর পাড়ে তাঁর আশ্রম ছিল। সুখে থাকতেন তিনি তাঁর তিন সাধনসঙ্গী আর পাঁচ সন্তান নিয়ে।
নিত্যানন্দ তখন কিশোর, তিনি দেখলেন এক গেরুয়া কাপড় পরা মুণ্ডিতমস্তক বিদেশী, গ্রামের প্রান্তে রাস্তায় পড়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। তাঁর শরীরে কোন ক্ষত নেই কিন্তু দেখেই বোঝা যায় সে রোগজীর্ণ। তিনি কাছে গিয়ে সাহায্যের চেষ্টা করতেই বিদেশী এক দিব্য হাসি হেসে তার কানেকানে ফিসফিস করে বললেন, "কলাবতীর দেশ, মোতির ফুল, ঢোল-ডগর...একটু জল...", তারপরেই সে গরল কালো রক্তবমি করতে করতে বলতে থাকলে, "যাইও বাবা...যাইও"।
আশ্রমে নিয়ে আসার পড় নিত্যানন্দের বাবা তাকে পরিক্ষা করে বললেন, "এ বড় খারাপ ধরনের কর্কট বাবা, ইনি বাঁচবেন না, আজই এনার শেষ রাত।"
শেষরাত্রে বিদেশী আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে চীৎকার করে বলল, "মুক্তি", তারপরেই তাঁর মৃত্যু হল।
পরদিন সকালে নিত্যানন্দ মা-বাপের চোখের জলে বিদায় নিয়ে দেশ ভ্রমনে বেরলেন।
No comments:
Post a Comment