Saturday, April 16, 2016

লাল-সবুজ কন্সপিরেসি

-"আরে শুয়োরের বাচ্চার দল! যত্তসব বড় বড় প্যাচাল-পারা কথা। গেলো বার বিধান-সভার আগে ঐ বুড়ো হারামজাদার বাচ্চা অগ্রদূতের মাঠে এয়েছিল ভাষণ মারাতে। কুঁইকুঁই শুনেই বুয়েছিলাম যে পার্টির শেষ অবস্থা। তার আরও কদিন বাদ থেকে শঙ্করদা বলল বলে জোনালের হয়ে দিদির পার্টি করছি। আমার বড়দা মরে যাওয়ার আগে অব্দি লাল- পার্টি করে গ্যাছে। এই দাদার বন্ধু  শঙ্করদা ।"
এই বলে পার্থদা একটা গোল্ডফ্লেক লাইটস ধরাল। পকেট থেকে ফোন বের করে খানিকক্ষণ নেড়ে চেড়ে আবার বলল, "পাড়া টা বাঙ্গালে বাঙ্গালে ছেয়ে গেল রে! ফুটবল টুর্নামেন্টে চাঁদাটা দিলে হয়।"
এখানে বলা দরকার পার্থদা নিজেও কাঠবাঙ্গাল। বাবা খুব কম বয়েসে মারা যান, তিনি ছিলেন পাড়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী আর বিত্তবান ব্যাবসায়ীর (প্রোমোটার) ড্রাইভার। মদ আর মদের পর হাতাহাতিতে তার মহাপ্রয়ান ঘটে। আগে যখন বন্দে-আলি পল্লি তে রায়টের খবর আসত, তখন হিন্দু-মুসলমান সব রকমের মানুষ এসে লাঠি-পাইপগান নিয়ে বস্তি পাহারা দিত বাবার কাছে শুনতাম। আশি দশকের শেষের দিক থেকে কিরকম যেন মাকড়শার জালে ঢেকে গেছিল, দুহাজার এগারর আসে পাশে লাল-সবুজ দ্বৈরথে বস্তি টা সারাক্ষণই চাপা উত্তেজনায় থাকত। যাইহোকপার্থদা  নিজে এদিক ওদিক অনেক ব্যাবসা-পত্র করে নিজের পায়ে দাঁড়ায়, এবং সবাই বিশ্বাস করে এতে ঠিক সময় মত ঠিক পার্টির হাত ধরার মত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পার্থদা দিয়েছে। 
তৃণমূলের হোক বাঁ সিপিএম, কিছু অসাধারণ কমরেডস আছে, যারা যেকোনো রকম কন্সপিরেসি থিওরিতেই বিশ্বাস করে নেয়। 
"হ্যাঁ তো যেটা বলছিলাম, শঙ্করদা, শালা, সেদিন তুইও তো ছিলি, আরে যেদিন পুশ্তের দুটো নখ উড়ে গেল, মনে নেই বাঞ্চত? নেশা করে করে ঘিলু তো চটকে গ্যাছে! যাকগে, সেদিন বাচ্ছাদের সাথে বল পিটিয়ে ফিরছি, দেখি শঙ্করদা কোথার থেকে বন্দুকের গুলির মত ছুটে ফিরছে, আমাকে দেখেই বলে দেখেছিস, বুড়ো চিনের দালাল গুলো হ্যান্ডেল শেডিং করিয়ে দিয়েছে!
-মানে?!
-মানে আর কি, ভোটের মুখে যাতে মানুষ সাতটার খবর না দেখতে পায় তাই ওরা ইলেকটিরি কম্পানি তে বলে হ্যান্ডেল নামিয়ে দিয়েছে, ব্যাস, লোডশেডিং!
আমি তখন হা-করে তাকিয়ে আছি। মাথা চুদে গ্যাছে শুনে! ঠিক তখনই শঙ্করদা বলল, এতো কিছুই না, গেল সোমবার সিপিএম কি করেছে জানিস?!
-কি? (আমরা সমস্বরে)
আমার কানের কাছে মুখ টা এনে ভীষণ সিরিয়াস গলায় বলল, 'মিছিল বেরিয়েছিল আমাদের, বিরাট মিছিল। হাতিবাগান থেকে এসপ্ল্যানেড। দু হাজার লোক ছিল। কবি-সাহিত্যিক রা ছিল। সেদিন ওরা মেঘ-বোমা মেরেছিল।
-মেঘ-বোমা?
-হাঁ ভাই, আমেরিকা থেকে খবর এসেছে, ওদের কাছে এমন বোমা আছে যেটা মারলে নাকি বৃষ্টি নেমে যায়। মিছিলটার দফারফা করে দিলে ভাই!
শঙ্করদার চোখে তখন জল ছলছল করছে।"
এই অব্দি বলেপার্থদা আরেকটা সিগারেট ধরাল, আমরা হতবাক হয়ে বসে আছি।
-যাই বুঝলি? তোরা বসে ভোটের গল্প মারা, আমি চললাম টুর্নামেন্টের হাল জানতে। 




No comments:

Post a Comment