Tuesday, November 28, 2017

মুসল্লাহ

একটা প্রজেক্টের শুরু থেকে মাঝপথ অব্দি এই নিয়ে তিনবার ওডিসি চেঞ্জ হল। এমনিতে কোনো অসুবিধা নেই। এনএসএস লোকেরা এসে রাতের বেলা সিপিউ তুলে নিয়ে নতুন সিটে লাগিয়ে দ্যায়, সোমবার সকালে গিয়ে প্রথম কাজ হয় গোলকধাঁধার মত অফিস ফ্লোর ঘুরে নতুন সিটটা আবিষ্কার করা।
রেফ্রিজারেটেড আবহাওয়ায়, আর্টিফিশিয়াল সিলিঙের নিচে সবই একরকম লাগে। ছোটবেলায় স্কুলের গেট থেকে গঙ্গার পাড়ের ঝোপঝাপড়া অব্দি একা একা ভাঙ্গা ডাল নিয়ে গোসাপ খুঁজে বেড়াতাম, আই গেট লিটল ফাজি ইন মাই হেড ইন আ ফর্মাল অ্যাটমস্ফিয়ার। 

টেবিলটা নোংরা করে রেখেছিলাম একগাদা অ্যাকশান ফিগার, ববলহেড, বই আর সফটবোর্ডে গোছা
গোছা পপকালচারের পোস্টার ইত্যাদিতে। মাঝে মাঝে ছিঁড়ে ফেলে দিতে ইচ্ছে হত। ইচ্ছে হত ম্যানেজারের গালে ঠাশ করে একটা উল্টো হাতের চড় মেরে বলি 'ইয়ার্কি হচ্ছে গুদ্মারানির ব্যাটা?', কিন্তু পারতাম না। মাস গেলে তিরিশ হাজার বাংলা অনার্স পরলে পেতাম কি? হয়ত না, কারণ আমার সেরকম যোগ্যতা ছিলনা।    
সময় নিয়ে বাক্সে ঢোকালাম, কফি বানালাম। সপ্তাহের সবচেয়ে কড়া কাপ। তারপর খাঁচায় বন্দি বাঘের মত অ্যাঙ্গজাইটি অ্যাটাক খেতে খেতে নতুন ওডিসি খুঁজতে বেরলাম। অবশ্যই হেডফোন লাগিয়ে, কারণ সোমবার সকালে সাড়ে দশটার সময় কেউ খেজুর করতে এলে তাকে খারাপ ভাবে খুন করে দিতেও আমি দুবার ভাবব না। সিয়াচেনে বাঙ্কারের বাইরে যেমনি কেউ বুলেটপ্রুফ না পরে মুততেও যায়না, তেমনি হেডফোন না লাগিয়ে আমি এমনি কোথাও যাইনা যেখানে আমাকে মাথার মধ্যেকার যুদ্ধ ছাপিয়ে কারুর সাথে স্মলটক করতে হবে। দিনের পর দিন দু-একটা সিলেবেল বাক্যালাপ করে কাটিয়ে দিতে পারি। কিন্তু মাল্টিভেন্ডার মেল-কমিউনিকেশান করার সময় আমি রাজা। চ্যাটবক্সে আমি সাতাশের গ্রেগরি করসো। সামনাসামনি মুখ ফুটে কথা বলার সময় আমার থেকে বেশী অসহায় বোধহয় আর কেউ নেই এই পৃথিবীতে।  
নতুন ওডিসিটা কাছেই আর রাস্তাঘাটে কারুর সাথে কথা বলতে হয়নি দেখে খুশিই হলাম। সিটের আশেপাশে চেনাশোনা কেউ নেই। ডেস্কের ড্রয়ারটা খুলে দেখলাম সিটটি অনতিপূর্বে অন্য কারুর ছিল এবং সে ইচ্ছা বা অনিচ্ছা সহকারে অধিকাংশ জিনিস ফেলে রেখেই চলে গ্যাছে।
কোম্পানির প্রোটকল অনুসারে আমাকে অ্যাডমিনে ফোন করে ডেস্ক ক্লিয়ারেন্সের ডিপার্টমেন্টে যোগাযোগ করতে হত কিন্তু অফিসের কাজে মন ছিলনা আর হাতে সবসময়ই আমার অনেক অনেক সময়। অতলস্পর্শী ডেস্ক থেকে সমস্ত জিনিস বের করে কোলে রাখলাম। আলপটকা ক্ল্যারিক্যাল জিনিস ছাড়া আর ছিল একটি মুরাকামির নভেল আর একটি মুসল্লাহ। 

তারপর, যেটা আমি গত দুই বছরে করিনি সেটাই করে ফেললাম। কিউবিকলের পাঁচিল টপকে অচেনা লোকটিকে জিজ্ঞেস করে ফেললাম এখানে আগে কে বসত।
- অ্যাম নট শিওর, মোস্ট প্রবাবলী শিরিন। লাস্ট নেম মনে নেই। ক্যান? কিছু দরকার?
বোকা খেজুরের গন্ধ পেয়ে ভায়লেন্টলী এরালাম কথাবার্তা।
তারপর আউটলুকে খুঁজতে বসলাম। অফিসে সবমিলিয়ে সাতান্নটি শিরিন, তারমধ্যে কলকাতায় আটটি। সবার কন্ট্যাক্ট কার্ড বের করলাম, তারপর ভেসে গেলাম। তিনজনকে ইন্সটিঙ্কটিভলী বাছাই করে কমুনিকেটারে লিখতে গিয়ে দেখি কিছুই কাজ করছে না। লাঞ্চে নিউজ চ্যানেলে দেখলাম চেন্নাই ভেসে গ্যাছে বন্যায়। সব মিলিয়ে সতেরোটা বিল্ডিং চেন্নাইতে কোম্পানির, মেজর সার্ভারস গুলো ওখানেই। তাই হয়ত দেশজুড়ে টেকনিক্যাল ইস্যু।
অফিস থেকে বেরলাম অসম্ভব জ্বালা নিয়ে সারা শরীরে। যেন জীবনই ব্যর্থ শিরিনকে খুঁজে না পেলে। রাতে ঘুম এল না। জেগে জেগে ভাবলাম কাল যদি আউটলুকের সমস্যা মেটে তাহলে কালই রহস্যের পর্দা উত্তোলন। সকালে উঠে জীবনে প্রথমবার অফিস যাওয়ার জন্যে পেটের কাছে হাল্কা উত্তেজনা অনুভব করলাম। 
অফিসে গিয়ে দেখি চেন্নাইয়ের অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে চব্বিশ ঘণ্টায়। মেল সার্ভারস মায়ের ভোগে। অর্থাৎ আমার কোন কাজই হল না। পুরো দিনটি কাটল কপালের উপরে একটা কালো ছায়া নিয়ে।
হঠাৎ মাথায় এল, মেয়েটি যদি মুসলিমই হয় তাহলে সে রিলিজিয়াস। নাহলে অফিসে নামাজ পরার কাপড় আনত না। তারপর থেকে প্রতি নামাজের সময় যোহর থেকে ঈশা অব্দি মেয়েদের প্রেয়ার রুমের সামনে ঘুরঘুর করতাম। গোটা চারেক মহিলা সবথেকে বেশী ফ্রিকয়েন্ট ছিল। তিনদিনের মাথায় বুঝলাম আমার দ্বারা নিজে থেকে গিয়ে কথা বলা সম্ভব না। তারপরই ভাবলাম যদি সে রিলিজিয়াস হয় তাহলে মুসল্লাহ ফেলে যাবেই বা ক্যান? হয়ত এটি তাকে পরিবারের কোন শুভাকাঙ্ক্ষী দিয়েছিল, সে নির্মম আনগ্রেটফুল , তার তাতে কিছু যায় আসে না।
রাতে অসম্ভব মদ গিলে বাড়ি ঢুকলাম। ফ্ল্যাটমেট পাশের ঘরে মেহেদি হাসান চালিয়েছিল।

जैसे तुम्हें आते हैं ना आने के बहाने
ऐसे ही किसी रोज़ न जाने के लिए आ
খুব কান্না পেল। সিঙ্কের সামনে দাঁড়িয়ে অনেক কাঁদলাম। সাত বছরে অমন কাঁদিনি। হাল্কা লাগল। ঘুমালাম শিশুর মত।

পরদিন বৃষ্টি ঠেলে অফিস এসে দেখলাম মেল, কমিউনিকেটার সব দাঁড়িয়েছে। পরমানন্দে খুঁজে বের করলাম সেই তিনজন কে। দুজন ম্যানেজার লেভেলের, নরম্যাল কিউবিকলে বসবে না। পড়ে রইল ওই এক। দেখলাম
কমিউনিকেটারে তার উপস্থিতি আননোন। মানে সে বিদেশে বা চাকরি ছেড়ে দিয়েছে। ধুক করে বুকের ঘোড়াদৌড় বন্ধ হয়ে গ্যাল। আশার মুখে পেচ্ছাপ।
শুরু করলাম সোশ্যাল নেটওয়ার্কিঙে খোঁজা। শুধুমাত্র একটি ভীষণ কমন নাম নিয়ে খুঁজে পাওয়ার আশা প্রায় নেই বললেই চলে। দিন দুয়েক সারাদিন ইন্টারনেটে বসে বসে অবসাদে প্রায় না খেয়ে না স্নান করে অসুস্থ হয়ে পরার উপক্রম হল।
আজ অফিসে গেলাম, পাশের ডেস্কের দাসবাবু বললেন একটি বুরখা পরা মেয়ে এসে আমার ডেস্কে ওর জিনিস খুঁজছিল,ডেস্কে চাবি আর ডেস্কে আমায় না পেয়ে বলে গ্যাছে লাঞ্চে আবার আসবে।
কোমরে তীক্ষ্ণ ব্যথা হতে লাগল, হাঁটু দুটো একে ওপরের সাথে ঠোকা লাগছিল, কানের কাছটা গরম লাগছিল। কাঁপা কাঁপা হাতে শিরিনের বাক্সটি দাসবাবুর জিম্মায় দিয়ে বললাম 'দিয়ে দেবেন'।
- একি, কোথায় চললে?
- শরীর ভাল নেই।
সোজা হেঁটে বাইরে এলাম। সিগারেট ধরালাম। বাস স্ট্যান্ডে এসে দক্ষিনের বাসে উঠলাম। ঈশ্বর পেয়ে গেলে মানুষ নির্লিপ্ত হয়ে যায়। নির্লিপ্ততাই বরং থাক। ঈশ্বরের সাথে কথা বলার সোশ্যাল স্কিল আর যাই হোক আমার নেই।

 
















Monday, November 20, 2017

কতগুলি দরজা-জানলা মিলে একখান লাহোর শহর হয়?

ওয়াকাড়ের বাস স্ট্যান্ড থেকে একটু এগিয়ে বিপজ্জনক ভাবে শিবনেড়ি বাসের গা ঘেঁষে স্টেশনগামী সাটলটা দাঁড়াল। বৃষ্টি প্রায় ধরে এসেছে। শ্বেতার গায়ে ভারি রেইনকোট। শীতের আরামে প্রায় ঘুমন্ত, গলা অব্দি মদ্যপ। চোখের পাশে কান্না শুকিয়ে লেগে আছে। এলোমেলো চুল। সরোজিনী, পালিকা বাজারের কলেজের বন্ধুরা তাকে হয়ত আজ অব্দি কক্ষনও এত ডি-গ্ল্যাম দ্যাখেনি।
- 'ম্যাডাম কাঁহা উতরনা হ্যাঁয়?'
- 'হাঁ...?'
সম্বিত ফিরে পেয়ে খেয়াল হল, চক পার হয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার চলে এসেছে। পার্সে এক-দুশ টাকা আছে। আর এক সপ্তাহ অফিস করলে পর মাইনে আবার। তদ্দিন চালাতে হবে।
একটা কুড়ির মারলবোরো অ্যাডভান্সডের থেকে দু তিনটে ছাড়া বাকিটা ব্যাগে আছে। একটা ওল্ড মঙ্কের পাঁচশর টু-থার্ড পড়ে আছে। একটা আধখাওয়া খাখরার প্যাকেট, একটা কার্ল ব্রাশ, ব্লুটুথ স্পিকার আর পঁচিশরকম হাবিজাবি জিনিস সরিয়ে কুড়ি টাকা বের করার পর দেখা গ্যাল, খুচরোর খাপে এক সেট ডোর-কি।

সাটলটা বেরিয়ে যেতেই চাবিটা রাস্তার উপর থেকে খান্দালার পাহাড়ের দিকে লক্ষ করে সে সর্বশক্তিতে ছুঁড়ে মারল, সেই সঙ্গে গাড় পাঞ্জাবী অ্যাক্সেন্টে কিছু অস্ফুটে গালি। তারপর কিছুক্ষণ কসরত করে, ঢাউস সাইডব্যাগ, চল্লিশ লিটারের রাক্স্যাক আর প্রকাণ্ড ট্রলি টেনে বৃষ্টি মেপে হিঞ্জেওারি সেজের দিকে হাঁটা দিল। বেশ খানিকটা পথ। কিন্তু অটোরিক্সা রাত দুটোয় দুশ হেঁকে দেবে। তার চেয়ে টলতে টলতে হাঁটা ভাল। 

পশ্চিমদিক থেকে ঠাণ্ডা হাওয়া সেপ্টেম্বরেও হাড়ে কনকনানি লাগিয়ে দিচ্ছে। নক্ষত্রবেগে ভুসোকালি মাখা ট্রলার বেরিয়ে যাচ্ছে পাশ দিয়ে। কয়েকটা চা-সিগারেট-বড়াপাওয়ের টপরি খোলা আছে। আশেপাশের কয়েকটা অফিস খোলা এখনো। মাইন্ডট্রির সামনে থেকে বাঁদিক নিতেই দুটো বাইকওয়ালা পিছন দিয়ে এসে অতর্কিতে গাড়ি থামিয়ে, 'ম্যাডাম হেল্প? ম্যাডাম লিফট চাহিয়ে?...'  
কয়েক সেকেন্ডের জন্যে ভীষণ অসহায় লাগার পর শ্বেতা হঠাৎই লক্ষ করল তার পেটের মধ্যে কোনো আন্সটেবল তরল কয়েক হাজার ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে ফুটছে। এপিডারমিস দিয়ে ধোঁওয়া বেরচ্ছে,  কানের পেছনদিকটা লাল। বৃষ্টিতে, ঘামে চুল জড়িয়ে আছে কপালে। জেগিন্সের পেছনে নাড়া থেকে খাটো কৃপাণটা বের করে লাল চোখে প্রথম বাইকওয়ালার সামনে নাচিয়ে উচ্চস্বরে বলল,
-'ইয়ে দেখা হ্যাঁয়? পিছওয়াড়ে মে ঘুসা দেঙ্গে বায়েঞ্চ...' 

টাওয়ারের তলায় যখন পৌঁছলাম তখন প্রায় তিনটে বাজছে। প্রডাকশান উইকে লেট-নাইটস খুবই নরম্যাল।
ফোনটা শেষবার দেখেছিলাম যখন, তখন সাড়ে আটটা, শ্বেতার প্রায় পঁচিশটা মিসড কল ছিল। আজকাল এরকম প্রায়েই হয়। নোংরা ব্রেকআপ আর ভিন্ডিক্টিভ রুমমেট, দুটো নিয়ে সারাদিন কুস্তি করে, সূর্য ডুবলেই রাম নিয়ে বারান্দায় বসে যায়। নাহলে শহরে কোন নাম না জানা পাবে। তখন সে অন্যই মানুষ। ধীরে ধীরে নেশা বাড়লে সে মাঝে মধ্যে আমাকে ফোন করে। হিন্দি-পাঞ্জাবি-ইংরিজি গুলিয়ে যায়, হাহা করে হাসতে থাকে সে এবং তারপরে ফোন ধরেই পাস আউট করে যায়। 


ঘরে ঢুকতেই দেখলাম রোহন ডাইনিং থেকে দুটো ব্যাগ টেনে সরাচ্ছে। আমাকে দেখে স্ট্রেট ফেস করে বলল, 
-'শ্বেতা এসেছে। অনেক মদ খেয়ে আছে। আর কান্নাকাটি করে বিচ্ছিরি অবস্থা। শিবাঙ্গি ছাদে নিয়ে গ্যাছে। ' 
বাইরের ঘরের কোনায় ভিজে সপসপে রেইনকোট, লাগেজ। কিচেনসিঙ্কে এঁটো গ্লাস।  
-'মহিলা বলছে এখানে থাকবে এক মাস, আর কিসব বলল বুঝতে পারছিলাম না। তোর ফোন বন্ধ ক্যান বাঁড়া?'
সেই যেবার উইকেন্ডার থেকে ফিরে রাতে আমাদের বাড়িতে সবাই ঘুমিয়েছিল সেইবার আমার গিটারটা বাজিয়ে অনেক র‍্যান্ডম গান শুনিয়েছিল শ্বেতা। সেলফ ডাউট কাটিয়ে কথাই বলতে পারিনি ভাল করে ওর সাথে তখনও।
'দাল দস খাঁ শেহর লাহোর-এ অন্দর
বাই কিন্নে ব্যূহে তাই কিন্নিয়া ওয়ারিয়ান?' 

ছাদে কাউকে না পেয়ে শিবাঙ্গিদের ঘরে বেল বাজাতে বৈভব দরজা খুলল। 
-'ডুড,ইওর ক্রাশ হ্যাজ পাসড আউট অন আওার ফ্লোর।'
দেখলাম চিত হয়ে মেঝেতে সংজ্ঞাহীন শ্বেতা। হাতে নিভে যাওয়া সিগারেট। তিন মনি পাঠানকোঠিকে বেঁটেখাটো শিবাঙ্গি কাউচ অব্দি তুলতে পারেনি।
তিনজন মিলে টেনে তুললাম, সারা মেঝে জুড়ে খয়েরি বমি করে ভাসাল শ্বেতা। কষ্ট করে হেসে বলল সকাল থেকে খাখরা আর ওল্ড মঙ্ক ছাড়া কিছু খায়েনি। জল খাইয়ে, ঘুম পারিয়ে ফোন অন করে দেখি মহিলা টেক্সট করেছে,
' please let me stay here for a couple of days? i'm extremely broken. fucked up with almost every contact i have in this city. can't stay home. i need you.'
আর,
'btw, i found a whiskey in your wardrobe. if i finish i'll buy you another by the end of the week.
and you gotta WASH your clothes.'

তিনজনে আর খানিকক্ষণ হেজিয়ে, সিগারেট টেনে নিচে যাওয়ার উপক্রম করছি এমন সময় শ্বেতা খাটে উঠে বসে বলল,
-'ক্যা ম্যায় তেরে অ্যাপারট্মেন্ট মে আভি নহা সাকতি হু? নহালুঙ্গি তো ঠিক হো জাউঙ্গি।'
এই বলে সে উঠে দাঁড়াতে গিয়ে মোক্ষম টাস্কি খেল এবং টিভি টেবিল ধরে, হেসে নিজেকে সামলাবার চেষ্টা করল। 
আমি বললাম ফ্রিজে চিকেন আছে। চল তোর পেটে খাবার দি কিছু।
















Tuesday, November 14, 2017

তিস্তায় তাকিয়ে

ডানদিকে ইউ-টার্ন নেওয়ার সময়ই পরদার ফাঁক দিয়ে চোখে পরেছিল পেট্রোল পাম্প! মানে টয়লেট। সতের বছর আগে এটি এখানে ছিলনা।
প্রায় ৬ ঘণ্টা একবারের তরেও বাস দাঁড়ায়নি। তার আগে যেখানে দাঁড়িয়েছিল সেটি বিহার বর্ডার। সেখানে নামার কথা ভাবলে বুক কাঁপছিল ইন্দিরার। তারপর মনে হল ফাক ইট! গটগট করে নেমে, পেচ্ছাপ করে, এক ভাঁড় ঘন দুধের চা খেয়ে সিগারেটখোর কো-ড্রাইভারের সাথে মিনিট তিনেক আড্ডা মেরে বাসে উঠে মনে হচ্ছিল তার শরীরের ওজন অর্ধেক হয়ে গ্যাছে। কিন্তু শিলিগুড়ি আসার আগেই যে তার ডায়াবেটিস তাকে এইভাবে ডিসাপয়েন্ট করবে সেটা ভাবেনি। 
মালদা থেকে ডালখোলা অব্দি রাস্তার ভয়ঙ্কর অবস্থা। এবারের বন্যায়। নাহলে গ্রিনলাইন সাড়ে আটটা বাজায় না। গত পনেরদিন ধরে ইন্টারনেট ঘেঁটে ঘেঁটে এই তথ্যটা রিভিউতে পড়ে পড়ে তারপর পরশুদিন টিকেট। 

ইন্দিরার স্বামী দুবছর হল গত হয়েছেন, ইসোফেগাস ক্যান্সারে। তাঁরা চল্লিশ বছরের বেশী সময় ধরে বিবাহিত ছিলেন। দীলিপ রেলের সিভিলবাবু ছিলেন, বদলির চাকরি। দেশের বহু কোনায় সারাজীবন ধরে ঘুরে ঘুরে সংসার করেছেন। বেড়াবার নেশা শিরায় শিরায়। গত পাঁচবছর হল জীবন্মৃত দীলিপের এক্সপনেন্সিয়াল রেটে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া দেখতে দেখতে ডিপ্রেশানে বেশ কিছু অস্বাভাবিক কোপিং মেকানিজম ধরে নিয়েছিলেন। গুড়াখু, ঘুমের ওষুধ খেয়ে স্লিপ রেজিস্ট করে টাল খাওয়া, খাবারের অসম্ভব নোলা এই আর কি।
ষষ্ঠী থেকেই পেটের মধ্যে গুড়গুড়ানি হচ্ছিল। ছেলে মেয়েরা নাটি নাতনি নিয়ে বাড়ি এসেছে, সেই কদিন আর নতুন করে রিসার্চ করা হয়ে ওঠেনি। অষ্টমী তে সবাই সেজেগুজে বেরলেই তিনি লুকিয়ে টানা ট্রলিব্যাগ নিয়ে, সালওয়ার কামিজ পরে মেট্রো ধরে সোজা এসপ্ল্যানেড, বাসে উঠে মেয়েকে ফোনে মেসেজ করে জানালেন,
"Ami kodiner jonye baire jachhi. Amar khnoj nite hobe na.
Ami-i phone kore nebo tomader.
Bhalo katuk pujo."

পাঠিয়েই ফোন ফ্লাইট মোড।
জীবনে কোনদিনই চলন্ত ট্রেনে ঘুম আসেনি, বাসেও এলনা। জেগে থাকলে বেশীই পেচ্ছাপ পায়। পেট্রোল পাম্পের টয়লেটটা এতটাই নোংরা যে লোকে সেখানে কুত্তাও হাগাতে আনবেনা, সেখানে পেচ্ছাপ করে বেরিয়ে ইন্দিরার মনে হল পনের বছর আগে করা শেষ সেক্সের থেকে বেশী ভাল ক্লাইম্যাক্স। 
লাল চা খেয়ে জাঙ্কশান থেকেই শেয়ার গাড়ি তে সামনের সিটে বসে সাড়ে তিন ঘণ্টায় গ্যাংটক।
এমজি মার্গে এসে মন মেজাজ ভাল হয়ে গেছিল। কতরকমের লোক সুন্দর সেজে অত্যন্ত সুন্দর ও পরিষ্কার রাস্তায় হেতে বেড়াচ্ছে, গোর্খাল্যান্ড মুভমেন্টের জন্যে আর সিকিমের সাথে মিলিট্যান্টসদের অসহযোগিতার কারণে পাহাড়ে গা ঘিনঘিনে টুরিস্ট কমই। সামনে দুটি লোক নেপালি সারেঙ্গী বাজিয়ে মিঠে গান ধরেছে, চারপাশে নানা রকম পসরা। 

একটা হস্টেল ঠিক করেছিলেন সেই রাতের জন্যে, অত্যন্ত কম টাকায় বিদেশিরা সিকিম এলে ওখানে থাকে। বাঙ্কবেডের নিচের তলায় ট্রলি রেখে বললেন, 
'আয়ম ফর কলকাতা, ট্রাভেলিং সোলো। আই গেস সিক্সটিন্থ টাইম ইন সিকিম। ইউ?'
ইজরায়েলী ভাঙ্গা ইংরাজিতে জানায় নাম লিয়া। তার আর্মি ভলান্তিয়ারিং শেষ হয়েছে গত মাসে, বিয়ে-প্রেম করার কাউকে পায়েনি। গ্রাফিক ডিজাইনিং পড়তে চায়। টার্ম এন্ডের টাকা নিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে সোজা ভারতবর্ষ। দুমাস ধরে হিল্লি-দিল্লী ঘুরছে। এরপর এখান থেকে নেপাল হয়ে দেশে ফিরবে।
লিয়ার দেশের থেকে আনা কেক খেয়ে চোখ লেগে যাওয়ার পড়েও, ঠিক সকাল চারটেতে অ্যালার্মের শব্দে উঠলেন, জিনস আর পারকা গায়ে দিয়ে শীত শীত হাওয়ার মধ্যে হেঁটে সোজা বজ্র বাসস্ট্যান্ড। শেয়ার গাড়ির সামনে লিয়া আর ইন্দিরা। তিনি জানতেন না জঙ্গু যেতে পারমিট লাগে, তারপর যখন শুনলেন তখন মনে মনে ভাবলেন যা হওয়ার হবে।
লিয়া মনের আনন্দে পাহাড়ী বাচ্চা চটকাচ্ছে। 

মঙ্গান পোঁছে লিয়া আর তার বন্ধুদের সাথে আরেকটা লোকাল জিপে আপার জঙ্গু। তাঁকে সিনিয়ার সিটিজেন পেয়ে খাতির, যত্নের কোন সীমাই নেই। হ্যাঁ, পাহাড়ে আসার পর থেকেই বাথরুমের সমস্যাটা মিটেছে। ড্রাইভারেরা চোখ লাল করে না। স্থানীয়দের বাথরুম অসচ্ছল হলেও পরিষ্কার। আর হাসি মুখ প্রায় সবাই। অপ্রাচুর্য আর ক্ষমাহীন প্রকৃতি হাসি বা জীবনীশক্তি ম্লান করে দেয়নি এখনো। 

তাশি এইবার ভোটে দাঁড়াচ্চে সিকিম ক্রান্তিকারী পার্টির হয়ে যেখানে চামলিঙ্গ প্রায় এক দশক হারেনি। প্রত্যন্ত গ্রামে মেয়েরাই পঞ্চায়েতে দাঁড়ায়। বাড়ির তলায় মণিপুরি কিমোনো পরে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন, ইন্দিরা কে জড়িয়ে ধরলেন।
লিয়ারা ব্যাগ রেখেই ছুটতে গ্যালো চাষের জায়গা গুলোতে, এলাচের গন্ধে চারদিক মম। একটু নিচ দিয়ে প্রবল স্রোতে গর্জন করতে করতে পাহাড় কেটে এগিয়ে যাচ্ছে তিস্তা।


গরম জলে স্নান করতে করতে তিনি ভাবলেন যে ছেলে মেয়েরা কি কি রকম ভাবে টেনশান করছে, কিন্তু তার পরেই ভাবলেন সবে তো দেড় দিন হল। কাল সকালে না হয় ফোন করবেন। 
জার্নির ক্লান্তি আর পালিয়ে আসার স্ট্রেস কেটেই গেছিল স্নান করে বেরিয়ে। বুকের কাছ টা একটু চিনচিন করছিল বটে। 
পাশের কটেজে জার্মানরা চেট বেকারের  'আই ফল ইন লাভ টু ইজিলি' চালিয়েছে। জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখলেন তিস্তার অপারের জঙ্গল টা ইমপেনেট্রেবল। কোনই আলো বা রাস্তা নেই।
তাশি এসে বলে গ্যালো কিচেনে তম্বা আর ঝাল শুয়োরের মাংস দেওয়া আছে। সবাই তাঁকে ডাকছে।
মুখ ফিরিয়ে ইন্দিরা তিস্তায় তাকিয়ে দেখলেন কলকাতার বাড়ি টা তিনি মনে করতে পারছেন না। ফোনে এক ফোঁটাও সিগনাল নেই।
কি আনন্দ!



 

Sunday, November 5, 2017

বিয়েবাড়ি

(১)
কলিং বেলের শব্দে মুহূর্তের মধ্যে দরজা খুলেই মা জিজ্ঞেস করল, 'কি হল বলত মেয়েটার?' 
বাবা নক্ষত্রবেগে জুতো মোজা খুলতে খুলতে বলল, 'সাস্পেক্টেড ইলোপ। সেজদি কান্নাকাটি করে অজ্ঞান হয়ে গ্যাছে।'
দাদা তখন স্কুলে, আমার ইররেগুলার পিরিয়ড চলছিল বলে স্কুল যাইনি। হাঁ করে দেখলাম বাবা একটা চুরুট ধরিয়ে বলল, 'জলধর কে ফোন করে দিয়েছি, ও দুদিন বাড়ি পাহারা দেবে।'
এই জলধর আমার বাবার পিওন, মাঝে মাঝে বাড়ির কাজ করে দিত। বাবার সুব্যাবহার আর উপরি মাইনের জন্যে। পরিবারেরই অংশ হয়ে গেছিল। নদীয়ার গ্রাম থেকে আমাদের জন্যে থোড়টা, পেঁপেটা, ধেনো চিংড়ীটা এনে দিত। বাবা রেলের সিভিলবাবু, অফিস মেট্রোভবনে, সন্ধেবেলা ডেকারস লেনে চিত্তদার দোকানে দু ঘণ্টা আড্ডা মেরে ফেরার মানুষটি দুপুর তিনটেয় বাড়িতে, আমি ঘটনার গ্র্যাভিটিটা বোঝার চেষ্টা করতে করতেই, মা শাড়ি পড়ে এলো। মা বলত চিত্তদা খাবারে আফিম মেশায়, নাহলে এত আঠা কিসের?!

                                                                                (২) 
কুড়ি মিনিটের মধ্যে আমরা ট্যাক্সিতে, দাদাকে সাউথ পয়েন্ট স্কুল থেকে উঠিয়ে সোজা দেশপ্রিয় পার্ক। সেজপিসির বাড়ি।
বাড়িতে তখন প্যান্ডিমনিয়াম।
বড়পিসি বাল বিধবা, উচ্চশিক্ষিত কিন্তু গোঁড়া ব্রাহ্মণ। হিটলারের মত মেজাজ।
সেজপিসেমশাই আর তার পরিবারের বাকি ছেলেরা বৈঠকখানায় চায়ের কাপের পাহাড় আর
চুরুট, সিগারেটের ধোঁয়ায় ঘর অন্ধকার করে দিয়েছে।
বড়রা কর্তব্যপরায়ণ হয়ে পুলিশে খবর দিয়েছে, থানার লোক এসে ছবি নিয়ে গ্যাছে।
সবাই এই আলোচনাই করছে যে ছেলেটিকে পেলে কি কি রকম বিচিত্র পদ্ধতিতে শাস্তি দেওয়া যায় আর কার কত রকম পলিটিকাল কানেকশান আছে।
বাড়ির বউরা হিস্টেরিকালি ক্রন্দনরত সেজপিসিকে যত্নআত্তি করার চেষ্টা করছে।
ছুঁড়িরা মুখ টিপে হাসছে, আর কেউ এলেই গম্ভীর হয়ে বলছে, আহারে দেবযানী কতই না কষ্ট পাচ্ছে এখন।
আর, আমরা বাচ্চারা অনেকদিন বাদে, স্কুল-আফিস-নিউক্লিয়ার ফ্যামিলির ব্যাস্ততা কাটিয়ে সব দাদাদিদিরা একসাথে হয়ে পরমানন্দে ক্যালব্যালানির অলিম্পিক লাগিয়ে দিয়েছি।
আমার মায়ের শ্বশুরবাড়ির দিক, তিনি ভীষণ ব্যাস্ততায় কার কি লাগবে তার ফেসিলিটেটর হয়ে সারা বাড়ি ঘুরে বেড়াচ্ছেন, দাদারা কি-খাব কি-খাব করছে, আমি বারান্দা দিয়ে দেখলাম ছোটপিসির গাড়ি বাড়ির লাগোয়া ফুটপাতে এসে দাঁড়াল। 

                                                                                  

(৩) 
ছোটপিসি জাঁদরেল মহিলা, ইকনমিক্সের টিচার, এসেই ঘোষণা করল, 'বাচ্চাগুলোকে বিকেলবেলা কিছু খেতে দিসনি? তোরা ক্যামন মানুষ?' বলেই আমাদের লাইন করে নিয়ে গিয়ে চিকেনরোলএর হরিরলুট চলল। শেষ বিকেলে থানার বড়বাবু এসে বললেন, 
- 'দেখুন এরা তো অ্যাডাল্ট, আমাদের বিশেষ এক্তিয়ার নেই স্বেচ্ছায় পালিয়ে গেলে।'
বাড়িতে চাপা গর্জন উঠল। 
- 'ভদ্রবাড়িতে মেয়ে পালায়?! হ্যাঁ?! জানেন আমাদের কত লোকে চেনে? আমার ছোটোছেলে সলিলদার সাথে সুর করে বোম্বাই তে, এইতো সেদিন শ্যামল (মিত্র, গায়ক) আর দিনেন (দাস, সিপিএমের হুব্বা জননেতা, ইন্টেলেকচুয়াল) এসে চা খেয়ে গ্যাল!' 
মা-বাবারা তখন হয়ত বোঝেননি, পার্টির প্রথম দিনগুলতে এঁরা বেশিরভাগ-ই ছিলেন অত্যন্ত গরিব, এবং পার্টির কালচারালের সাথে হেড ব্যুরোর সদ্ভাব ছিলনা একেবারেই। 
বড়পিসি ধমকে উঠে বললেন, 'আপনার মেয়ে পালিয়ে গেলে?!'
বড়বাবু ঢোঁক গিলে বললেন, 'দেখুন, আমি রুটিন কাজগুলো সেরে রাখি, আপনারা যখন জানতেনই যে এরকম ঘটার প্রপেন্সিটি আছে তো প্রিকশাস হতে পারতেন, এখন দুজনে পালিয়ে গেলে আমাদের হাত-পা বাঁধা।'
ইতিমধ্যে বাড়ির সামনে একটি বড় অস্টিন গাড়ি এসে দাঁড়াল। ভেতর থেকে নামলেন জিনস শার্ট পরিহিত শ্বশুর, ছিমছাম শাড়ি পরা শাশুড়ি আর দেবযানী ও তার দেবকুমার। 
বাড়ির ছেলেরা তড়বড় করে সিঁড়ি দিয়ে নেমে গাজোয়ারির প্রসঙ্গ উত্থাপন করার আগের মুহূর্তে শ্বশুরমশাই আত্মপরিচয় দিতে শুরু করলেন, তিনি জানতেন চিন-যুদ্ধ অপেক্ষা করে আছে ওখানে তার জন্যে।
দেবকুমারের সাথে আলাপ স্কুলের সামনেই, একটু একটু করে অনেকদিন ধরে, দেবকুমার তখন পরা শেষ করে ওয়েল করপরেশানে চাকরিতে ঢুকেছে। নেহাতই কোন কারণ ছিল না পালাবার, শুধুমাত্র পেরেন্টাল ইগো অ্যাভএড করা ছাড়া।
দেবযানী জানত ও অঙ্ক পরীক্ষা ভাল দেয়নি। এটাও জানত যে আজ ও যেটা করতে চলেছ তাতে পরিবারের বৃক্ষতন্তুতে অ্যাটমবম্ব পরবে। লেখাপড়ায় ব্রিলিয়ান্ট, লক্ষ্মী ঠাকুরের মুখ কেটে বসান এইটুকুন মেয়ে টুয়েলভের বোর্ডস দিয়েই বাথরুমে গিয়ে শাড়ি পরবে, অশোকা হলের বাইরেই গাড়িতে দেবকুমারের বাবা-মা বসে আছেন, এখান থেকে সোজা দক্ষিণেশ্বর, তারপর মালাবদল। তারপর সন্ধেবেলা সদলবলে বাড়ি গিয়ে মা-বাবার পায়ে ডাইভ। 

(৪)
ভিড় ঠেলে বড়পিসি বেরিয়ে এলেন, এসেই বললেন,' কুটুম বাড়ি এসেছে কিছু মিষ্টি আন, এখানে আর গোল করিসনে, যা ভেতরে যা।'
বড়পিসির ওপরে কথা বলে এমন লোক সেই মুহূর্তে আমাদের পরিবারে কেউ বেঁছে ছিলনা। তিনি মুখ লুকিয়ে বললেন, 'ছেমড়ি পালিয়ে বে করেছে, বেশ করেছে, আমার মত অ্যাট-বছরে বে হবার থেকে অনেক ভাল।'
দেখলাম, পরিবারের অনেক মহিলার মুখে একটা অন্যরকম আলো। যেই আলোটার নাম 'হুরররররে...!'
বাবা এতক্ষণ কথা বলেননি, বললেন, 'তাহলে বিয়েবাড়িটা...'
- 'হ্যাঁ হ্যাঁ! সেই নিয়েই তো কথা বলার! একটু যদি চা হত...'
গোটা তিরিশেক লোক চুপচাপ সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে গ্যাল। শুরু হল চায়ের ঝর্না আর দেখা গ্যাল চুরুটের মেঘ।