ওয়াকাড়ের বাস স্ট্যান্ড থেকে একটু এগিয়ে বিপজ্জনক ভাবে শিবনেড়ি বাসের গা ঘেঁষে স্টেশনগামী সাটলটা দাঁড়াল। বৃষ্টি প্রায় ধরে এসেছে। শ্বেতার গায়ে ভারি রেইনকোট। শীতের আরামে প্রায় ঘুমন্ত, গলা অব্দি মদ্যপ। চোখের পাশে কান্না শুকিয়ে লেগে আছে। এলোমেলো চুল। সরোজিনী, পালিকা বাজারের কলেজের বন্ধুরা তাকে হয়ত আজ অব্দি কক্ষনও এত ডি-গ্ল্যাম দ্যাখেনি।
- 'ম্যাডাম কাঁহা উতরনা হ্যাঁয়?'
- 'হাঁ...?'
সম্বিত ফিরে পেয়ে খেয়াল হল, চক পার হয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার চলে এসেছে। পার্সে এক-দুশ টাকা আছে। আর এক সপ্তাহ অফিস করলে পর মাইনে আবার। তদ্দিন চালাতে হবে।
একটা কুড়ির মারলবোরো অ্যাডভান্সডের থেকে দু তিনটে ছাড়া বাকিটা ব্যাগে আছে। একটা ওল্ড মঙ্কের পাঁচশর টু-থার্ড পড়ে আছে। একটা আধখাওয়া খাখরার প্যাকেট, একটা কার্ল ব্রাশ, ব্লুটুথ স্পিকার আর পঁচিশরকম হাবিজাবি জিনিস সরিয়ে কুড়ি টাকা বের করার পর দেখা গ্যাল, খুচরোর খাপে এক সেট ডোর-কি।
সাটলটা বেরিয়ে যেতেই চাবিটা রাস্তার উপর থেকে খান্দালার পাহাড়ের দিকে লক্ষ করে সে সর্বশক্তিতে ছুঁড়ে মারল, সেই সঙ্গে গাড় পাঞ্জাবী অ্যাক্সেন্টে কিছু অস্ফুটে গালি। তারপর কিছুক্ষণ কসরত করে, ঢাউস সাইডব্যাগ, চল্লিশ লিটারের রাক্স্যাক আর প্রকাণ্ড ট্রলি টেনে বৃষ্টি মেপে হিঞ্জেওারি সেজের দিকে হাঁটা দিল। বেশ খানিকটা পথ। কিন্তু অটোরিক্সা রাত দুটোয় দুশ হেঁকে দেবে। তার চেয়ে টলতে টলতে হাঁটা ভাল।
পশ্চিমদিক থেকে ঠাণ্ডা হাওয়া সেপ্টেম্বরেও হাড়ে কনকনানি লাগিয়ে দিচ্ছে। নক্ষত্রবেগে ভুসোকালি মাখা ট্রলার বেরিয়ে যাচ্ছে পাশ দিয়ে। কয়েকটা চা-সিগারেট-বড়াপাওয়ের টপরি খোলা আছে। আশেপাশের কয়েকটা অফিস খোলা এখনো। মাইন্ডট্রির সামনে থেকে বাঁদিক নিতেই দুটো বাইকওয়ালা পিছন দিয়ে এসে অতর্কিতে গাড়ি থামিয়ে, 'ম্যাডাম হেল্প? ম্যাডাম লিফট চাহিয়ে?...'
কয়েক সেকেন্ডের জন্যে ভীষণ অসহায় লাগার পর শ্বেতা হঠাৎই লক্ষ করল তার পেটের মধ্যে কোনো আন্সটেবল তরল কয়েক হাজার ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে ফুটছে। এপিডারমিস দিয়ে ধোঁওয়া বেরচ্ছে, কানের পেছনদিকটা লাল। বৃষ্টিতে, ঘামে চুল জড়িয়ে আছে কপালে। জেগিন্সের পেছনে নাড়া থেকে খাটো কৃপাণটা বের করে লাল চোখে প্রথম বাইকওয়ালার সামনে নাচিয়ে উচ্চস্বরে বলল,
-'ইয়ে দেখা হ্যাঁয়? পিছওয়াড়ে মে ঘুসা দেঙ্গে বায়েঞ্চ...'
টাওয়ারের তলায় যখন পৌঁছলাম তখন প্রায় তিনটে বাজছে। প্রডাকশান উইকে লেট-নাইটস খুবই নরম্যাল।
ফোনটা শেষবার দেখেছিলাম যখন, তখন সাড়ে আটটা, শ্বেতার প্রায় পঁচিশটা মিসড কল ছিল। আজকাল এরকম প্রায়েই হয়। নোংরা ব্রেকআপ আর ভিন্ডিক্টিভ রুমমেট, দুটো নিয়ে সারাদিন কুস্তি করে, সূর্য ডুবলেই রাম নিয়ে বারান্দায় বসে যায়। নাহলে শহরে কোন নাম না জানা পাবে। তখন সে অন্যই মানুষ। ধীরে ধীরে নেশা বাড়লে সে মাঝে মধ্যে আমাকে ফোন করে। হিন্দি-পাঞ্জাবি-ইংরিজি গুলিয়ে যায়, হাহা করে হাসতে থাকে সে এবং তারপরে ফোন ধরেই পাস আউট করে যায়।
ঘরে ঢুকতেই দেখলাম রোহন ডাইনিং থেকে দুটো ব্যাগ টেনে সরাচ্ছে। আমাকে দেখে স্ট্রেট ফেস করে বলল,
-'শ্বেতা এসেছে। অনেক মদ খেয়ে আছে। আর কান্নাকাটি করে বিচ্ছিরি অবস্থা। শিবাঙ্গি ছাদে নিয়ে গ্যাছে। '
বাইরের ঘরের কোনায় ভিজে সপসপে রেইনকোট, লাগেজ। কিচেনসিঙ্কে এঁটো গ্লাস।
-'মহিলা বলছে এখানে থাকবে এক মাস, আর কিসব বলল বুঝতে পারছিলাম না। তোর ফোন বন্ধ ক্যান বাঁড়া?'
সেই যেবার উইকেন্ডার থেকে ফিরে রাতে আমাদের বাড়িতে সবাই ঘুমিয়েছিল সেইবার আমার গিটারটা বাজিয়ে অনেক র্যান্ডম গান শুনিয়েছিল শ্বেতা। সেলফ ডাউট কাটিয়ে কথাই বলতে পারিনি ভাল করে ওর সাথে তখনও।
ছাদে কাউকে না পেয়ে শিবাঙ্গিদের ঘরে বেল বাজাতে বৈভব দরজা খুলল।
-'ডুড,ইওর ক্রাশ হ্যাজ পাসড আউট অন আওার ফ্লোর।'
দেখলাম চিত হয়ে মেঝেতে সংজ্ঞাহীন শ্বেতা। হাতে নিভে যাওয়া সিগারেট। তিন মনি পাঠানকোঠিকে বেঁটেখাটো শিবাঙ্গি কাউচ অব্দি তুলতে পারেনি।
তিনজন মিলে টেনে তুললাম, সারা মেঝে জুড়ে খয়েরি বমি করে ভাসাল শ্বেতা। কষ্ট করে হেসে বলল সকাল থেকে খাখরা আর ওল্ড মঙ্ক ছাড়া কিছু খায়েনি। জল খাইয়ে, ঘুম পারিয়ে ফোন অন করে দেখি মহিলা টেক্সট করেছে,
' please let me stay here for a couple of days? i'm extremely broken. fucked up with almost every contact i have in this city. can't stay home. i need you.'
আর,
'btw, i found a whiskey in your wardrobe. if i finish i'll buy you another by the end of the week.
and you gotta WASH your clothes.'
তিনজনে আর খানিকক্ষণ হেজিয়ে, সিগারেট টেনে নিচে যাওয়ার উপক্রম করছি এমন সময় শ্বেতা খাটে উঠে বসে বলল,
-'ক্যা ম্যায় তেরে অ্যাপারট্মেন্ট মে আভি নহা সাকতি হু? নহালুঙ্গি তো ঠিক হো জাউঙ্গি।'
এই বলে সে উঠে দাঁড়াতে গিয়ে মোক্ষম টাস্কি খেল এবং টিভি টেবিল ধরে, হেসে নিজেকে সামলাবার চেষ্টা করল।
আমি বললাম ফ্রিজে চিকেন আছে। চল তোর পেটে খাবার দি কিছু।
- 'ম্যাডাম কাঁহা উতরনা হ্যাঁয়?'
- 'হাঁ...?'
সম্বিত ফিরে পেয়ে খেয়াল হল, চক পার হয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার চলে এসেছে। পার্সে এক-দুশ টাকা আছে। আর এক সপ্তাহ অফিস করলে পর মাইনে আবার। তদ্দিন চালাতে হবে।
একটা কুড়ির মারলবোরো অ্যাডভান্সডের থেকে দু তিনটে ছাড়া বাকিটা ব্যাগে আছে। একটা ওল্ড মঙ্কের পাঁচশর টু-থার্ড পড়ে আছে। একটা আধখাওয়া খাখরার প্যাকেট, একটা কার্ল ব্রাশ, ব্লুটুথ স্পিকার আর পঁচিশরকম হাবিজাবি জিনিস সরিয়ে কুড়ি টাকা বের করার পর দেখা গ্যাল, খুচরোর খাপে এক সেট ডোর-কি।
সাটলটা বেরিয়ে যেতেই চাবিটা রাস্তার উপর থেকে খান্দালার পাহাড়ের দিকে লক্ষ করে সে সর্বশক্তিতে ছুঁড়ে মারল, সেই সঙ্গে গাড় পাঞ্জাবী অ্যাক্সেন্টে কিছু অস্ফুটে গালি। তারপর কিছুক্ষণ কসরত করে, ঢাউস সাইডব্যাগ, চল্লিশ লিটারের রাক্স্যাক আর প্রকাণ্ড ট্রলি টেনে বৃষ্টি মেপে হিঞ্জেওারি সেজের দিকে হাঁটা দিল। বেশ খানিকটা পথ। কিন্তু অটোরিক্সা রাত দুটোয় দুশ হেঁকে দেবে। তার চেয়ে টলতে টলতে হাঁটা ভাল।
পশ্চিমদিক থেকে ঠাণ্ডা হাওয়া সেপ্টেম্বরেও হাড়ে কনকনানি লাগিয়ে দিচ্ছে। নক্ষত্রবেগে ভুসোকালি মাখা ট্রলার বেরিয়ে যাচ্ছে পাশ দিয়ে। কয়েকটা চা-সিগারেট-বড়াপাওয়ের টপরি খোলা আছে। আশেপাশের কয়েকটা অফিস খোলা এখনো। মাইন্ডট্রির সামনে থেকে বাঁদিক নিতেই দুটো বাইকওয়ালা পিছন দিয়ে এসে অতর্কিতে গাড়ি থামিয়ে, 'ম্যাডাম হেল্প? ম্যাডাম লিফট চাহিয়ে?...'
কয়েক সেকেন্ডের জন্যে ভীষণ অসহায় লাগার পর শ্বেতা হঠাৎই লক্ষ করল তার পেটের মধ্যে কোনো আন্সটেবল তরল কয়েক হাজার ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে ফুটছে। এপিডারমিস দিয়ে ধোঁওয়া বেরচ্ছে, কানের পেছনদিকটা লাল। বৃষ্টিতে, ঘামে চুল জড়িয়ে আছে কপালে। জেগিন্সের পেছনে নাড়া থেকে খাটো কৃপাণটা বের করে লাল চোখে প্রথম বাইকওয়ালার সামনে নাচিয়ে উচ্চস্বরে বলল,
-'ইয়ে দেখা হ্যাঁয়? পিছওয়াড়ে মে ঘুসা দেঙ্গে বায়েঞ্চ...'
টাওয়ারের তলায় যখন পৌঁছলাম তখন প্রায় তিনটে বাজছে। প্রডাকশান উইকে লেট-নাইটস খুবই নরম্যাল।
ফোনটা শেষবার দেখেছিলাম যখন, তখন সাড়ে আটটা, শ্বেতার প্রায় পঁচিশটা মিসড কল ছিল। আজকাল এরকম প্রায়েই হয়। নোংরা ব্রেকআপ আর ভিন্ডিক্টিভ রুমমেট, দুটো নিয়ে সারাদিন কুস্তি করে, সূর্য ডুবলেই রাম নিয়ে বারান্দায় বসে যায়। নাহলে শহরে কোন নাম না জানা পাবে। তখন সে অন্যই মানুষ। ধীরে ধীরে নেশা বাড়লে সে মাঝে মধ্যে আমাকে ফোন করে। হিন্দি-পাঞ্জাবি-ইংরিজি গুলিয়ে যায়, হাহা করে হাসতে থাকে সে এবং তারপরে ফোন ধরেই পাস আউট করে যায়।
ঘরে ঢুকতেই দেখলাম রোহন ডাইনিং থেকে দুটো ব্যাগ টেনে সরাচ্ছে। আমাকে দেখে স্ট্রেট ফেস করে বলল,
-'শ্বেতা এসেছে। অনেক মদ খেয়ে আছে। আর কান্নাকাটি করে বিচ্ছিরি অবস্থা। শিবাঙ্গি ছাদে নিয়ে গ্যাছে। '
বাইরের ঘরের কোনায় ভিজে সপসপে রেইনকোট, লাগেজ। কিচেনসিঙ্কে এঁটো গ্লাস।
-'মহিলা বলছে এখানে থাকবে এক মাস, আর কিসব বলল বুঝতে পারছিলাম না। তোর ফোন বন্ধ ক্যান বাঁড়া?'
সেই যেবার উইকেন্ডার থেকে ফিরে রাতে আমাদের বাড়িতে সবাই ঘুমিয়েছিল সেইবার আমার গিটারটা বাজিয়ে অনেক র্যান্ডম গান শুনিয়েছিল শ্বেতা। সেলফ ডাউট কাটিয়ে কথাই বলতে পারিনি ভাল করে ওর সাথে তখনও।
'দাল দস খাঁ শেহর লাহোর-এ অন্দর
বাই কিন্নে ব্যূহে তাই কিন্নিয়া ওয়ারিয়ান?'
বাই কিন্নে ব্যূহে তাই কিন্নিয়া ওয়ারিয়ান?'
-'ডুড,ইওর ক্রাশ হ্যাজ পাসড আউট অন আওার ফ্লোর।'
দেখলাম চিত হয়ে মেঝেতে সংজ্ঞাহীন শ্বেতা। হাতে নিভে যাওয়া সিগারেট। তিন মনি পাঠানকোঠিকে বেঁটেখাটো শিবাঙ্গি কাউচ অব্দি তুলতে পারেনি।
তিনজন মিলে টেনে তুললাম, সারা মেঝে জুড়ে খয়েরি বমি করে ভাসাল শ্বেতা। কষ্ট করে হেসে বলল সকাল থেকে খাখরা আর ওল্ড মঙ্ক ছাড়া কিছু খায়েনি। জল খাইয়ে, ঘুম পারিয়ে ফোন অন করে দেখি মহিলা টেক্সট করেছে,
' please let me stay here for a couple of days? i'm extremely broken. fucked up with almost every contact i have in this city. can't stay home. i need you.'
আর,
'btw, i found a whiskey in your wardrobe. if i finish i'll buy you another by the end of the week.
and you gotta WASH your clothes.'
তিনজনে আর খানিকক্ষণ হেজিয়ে, সিগারেট টেনে নিচে যাওয়ার উপক্রম করছি এমন সময় শ্বেতা খাটে উঠে বসে বলল,
-'ক্যা ম্যায় তেরে অ্যাপারট্মেন্ট মে আভি নহা সাকতি হু? নহালুঙ্গি তো ঠিক হো জাউঙ্গি।'
এই বলে সে উঠে দাঁড়াতে গিয়ে মোক্ষম টাস্কি খেল এবং টিভি টেবিল ধরে, হেসে নিজেকে সামলাবার চেষ্টা করল।
আমি বললাম ফ্রিজে চিকেন আছে। চল তোর পেটে খাবার দি কিছু।
No comments:
Post a Comment