একটা প্রজেক্টের শুরু থেকে মাঝপথ অব্দি এই নিয়ে তিনবার ওডিসি চেঞ্জ হল। এমনিতে কোনো অসুবিধা নেই। এনএসএস লোকেরা এসে রাতের বেলা সিপিউ তুলে নিয়ে নতুন সিটে লাগিয়ে দ্যায়, সোমবার সকালে গিয়ে প্রথম কাজ হয় গোলকধাঁধার মত অফিস ফ্লোর ঘুরে নতুন সিটটা আবিষ্কার করা।
রেফ্রিজারেটেড আবহাওয়ায়, আর্টিফিশিয়াল সিলিঙের নিচে সবই একরকম লাগে। ছোটবেলায় স্কুলের গেট থেকে গঙ্গার পাড়ের ঝোপঝাপড়া অব্দি একা একা ভাঙ্গা ডাল নিয়ে গোসাপ খুঁজে বেড়াতাম, আই গেট লিটল ফাজি ইন মাই হেড ইন আ ফর্মাল অ্যাটমস্ফিয়ার।
টেবিলটা নোংরা করে রেখেছিলাম একগাদা অ্যাকশান ফিগার, ববলহেড, বই আর সফটবোর্ডে গোছাগোছা পপকালচারের পোস্টার ইত্যাদিতে। মাঝে মাঝে ছিঁড়ে ফেলে দিতে ইচ্ছে হত। ইচ্ছে হত ম্যানেজারের গালে ঠাশ করে একটা উল্টো হাতের চড় মেরে বলি 'ইয়ার্কি হচ্ছে গুদ্মারানির ব্যাটা?', কিন্তু পারতাম না। মাস গেলে তিরিশ হাজার বাংলা অনার্স পরলে পেতাম কি? হয়ত না, কারণ আমার সেরকম যোগ্যতা ছিলনা।
সময় নিয়ে বাক্সে ঢোকালাম, কফি বানালাম। সপ্তাহের সবচেয়ে কড়া কাপ। তারপর খাঁচায় বন্দি বাঘের মত অ্যাঙ্গজাইটি অ্যাটাক খেতে খেতে নতুন ওডিসি খুঁজতে বেরলাম। অবশ্যই হেডফোন লাগিয়ে, কারণ সোমবার সকালে সাড়ে দশটার সময় কেউ খেজুর করতে এলে তাকে খারাপ ভাবে খুন করে দিতেও আমি দুবার ভাবব না। সিয়াচেনে বাঙ্কারের বাইরে যেমনি কেউ বুলেটপ্রুফ না পরে মুততেও যায়না, তেমনি হেডফোন না লাগিয়ে আমি এমনি কোথাও যাইনা যেখানে আমাকে মাথার মধ্যেকার যুদ্ধ ছাপিয়ে কারুর সাথে স্মলটক করতে হবে। দিনের পর দিন দু-একটা সিলেবেল বাক্যালাপ করে কাটিয়ে দিতে পারি। কিন্তু মাল্টিভেন্ডার মেল-কমিউনিকেশান করার সময় আমি রাজা। চ্যাটবক্সে আমি সাতাশের গ্রেগরি করসো। সামনাসামনি মুখ ফুটে কথা বলার সময় আমার থেকে বেশী অসহায় বোধহয় আর কেউ নেই এই পৃথিবীতে।
নতুন ওডিসিটা কাছেই আর রাস্তাঘাটে কারুর সাথে কথা বলতে হয়নি দেখে খুশিই হলাম। সিটের আশেপাশে চেনাশোনা কেউ নেই। ডেস্কের ড্রয়ারটা খুলে দেখলাম সিটটি অনতিপূর্বে অন্য কারুর ছিল এবং সে ইচ্ছা বা অনিচ্ছা সহকারে অধিকাংশ জিনিস ফেলে রেখেই চলে গ্যাছে।
কোম্পানির প্রোটকল অনুসারে আমাকে অ্যাডমিনে ফোন করে ডেস্ক ক্লিয়ারেন্সের ডিপার্টমেন্টে যোগাযোগ করতে হত কিন্তু অফিসের কাজে মন ছিলনা আর হাতে সবসময়ই আমার অনেক অনেক সময়। অতলস্পর্শী ডেস্ক থেকে সমস্ত জিনিস বের করে কোলে রাখলাম। আলপটকা ক্ল্যারিক্যাল জিনিস ছাড়া আর ছিল একটি মুরাকামির নভেল আর একটি মুসল্লাহ।
তারপর, যেটা আমি গত দুই বছরে করিনি সেটাই করে ফেললাম। কিউবিকলের পাঁচিল টপকে অচেনা লোকটিকে জিজ্ঞেস করে ফেললাম এখানে আগে কে বসত।
- অ্যাম নট শিওর, মোস্ট প্রবাবলী শিরিন। লাস্ট নেম মনে নেই। ক্যান? কিছু দরকার?
বোকা খেজুরের গন্ধ পেয়ে ভায়লেন্টলী এরালাম কথাবার্তা।
তারপর আউটলুকে খুঁজতে বসলাম। অফিসে সবমিলিয়ে সাতান্নটি শিরিন, তারমধ্যে কলকাতায় আটটি। সবার কন্ট্যাক্ট কার্ড বের করলাম, তারপর ভেসে গেলাম। তিনজনকে ইন্সটিঙ্কটিভলী বাছাই করে কমুনিকেটারে লিখতে গিয়ে দেখি কিছুই কাজ করছে না। লাঞ্চে নিউজ চ্যানেলে দেখলাম চেন্নাই ভেসে গ্যাছে বন্যায়। সব মিলিয়ে সতেরোটা বিল্ডিং চেন্নাইতে কোম্পানির, মেজর সার্ভারস গুলো ওখানেই। তাই হয়ত দেশজুড়ে টেকনিক্যাল ইস্যু।
অফিস থেকে বেরলাম অসম্ভব জ্বালা নিয়ে সারা শরীরে। যেন জীবনই ব্যর্থ শিরিনকে খুঁজে না পেলে। রাতে ঘুম এল না। জেগে জেগে ভাবলাম কাল যদি আউটলুকের সমস্যা মেটে তাহলে কালই রহস্যের পর্দা উত্তোলন। সকালে উঠে জীবনে প্রথমবার অফিস যাওয়ার জন্যে পেটের কাছে হাল্কা উত্তেজনা অনুভব করলাম।
অফিসে গিয়ে দেখি চেন্নাইয়ের অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে চব্বিশ ঘণ্টায়। মেল সার্ভারস মায়ের ভোগে। অর্থাৎ আমার কোন কাজই হল না। পুরো দিনটি কাটল কপালের উপরে একটা কালো ছায়া নিয়ে।
হঠাৎ মাথায় এল, মেয়েটি যদি মুসলিমই হয় তাহলে সে রিলিজিয়াস। নাহলে অফিসে নামাজ পরার কাপড় আনত না। তারপর থেকে প্রতি নামাজের সময় যোহর থেকে ঈশা অব্দি মেয়েদের প্রেয়ার রুমের সামনে ঘুরঘুর করতাম। গোটা চারেক মহিলা সবথেকে বেশী ফ্রিকয়েন্ট ছিল। তিনদিনের মাথায় বুঝলাম আমার দ্বারা নিজে থেকে গিয়ে কথা বলা সম্ভব না। তারপরই ভাবলাম যদি সে রিলিজিয়াস হয় তাহলে মুসল্লাহ ফেলে যাবেই বা ক্যান? হয়ত এটি তাকে পরিবারের কোন শুভাকাঙ্ক্ষী দিয়েছিল, সে নির্মম আনগ্রেটফুল , তার তাতে কিছু যায় আসে না।
রাতে অসম্ভব মদ গিলে বাড়ি ঢুকলাম। ফ্ল্যাটমেট পাশের ঘরে মেহেদি হাসান চালিয়েছিল।
রেফ্রিজারেটেড আবহাওয়ায়, আর্টিফিশিয়াল সিলিঙের নিচে সবই একরকম লাগে। ছোটবেলায় স্কুলের গেট থেকে গঙ্গার পাড়ের ঝোপঝাপড়া অব্দি একা একা ভাঙ্গা ডাল নিয়ে গোসাপ খুঁজে বেড়াতাম, আই গেট লিটল ফাজি ইন মাই হেড ইন আ ফর্মাল অ্যাটমস্ফিয়ার।
টেবিলটা নোংরা করে রেখেছিলাম একগাদা অ্যাকশান ফিগার, ববলহেড, বই আর সফটবোর্ডে গোছাগোছা পপকালচারের পোস্টার ইত্যাদিতে। মাঝে মাঝে ছিঁড়ে ফেলে দিতে ইচ্ছে হত। ইচ্ছে হত ম্যানেজারের গালে ঠাশ করে একটা উল্টো হাতের চড় মেরে বলি 'ইয়ার্কি হচ্ছে গুদ্মারানির ব্যাটা?', কিন্তু পারতাম না। মাস গেলে তিরিশ হাজার বাংলা অনার্স পরলে পেতাম কি? হয়ত না, কারণ আমার সেরকম যোগ্যতা ছিলনা।
সময় নিয়ে বাক্সে ঢোকালাম, কফি বানালাম। সপ্তাহের সবচেয়ে কড়া কাপ। তারপর খাঁচায় বন্দি বাঘের মত অ্যাঙ্গজাইটি অ্যাটাক খেতে খেতে নতুন ওডিসি খুঁজতে বেরলাম। অবশ্যই হেডফোন লাগিয়ে, কারণ সোমবার সকালে সাড়ে দশটার সময় কেউ খেজুর করতে এলে তাকে খারাপ ভাবে খুন করে দিতেও আমি দুবার ভাবব না। সিয়াচেনে বাঙ্কারের বাইরে যেমনি কেউ বুলেটপ্রুফ না পরে মুততেও যায়না, তেমনি হেডফোন না লাগিয়ে আমি এমনি কোথাও যাইনা যেখানে আমাকে মাথার মধ্যেকার যুদ্ধ ছাপিয়ে কারুর সাথে স্মলটক করতে হবে। দিনের পর দিন দু-একটা সিলেবেল বাক্যালাপ করে কাটিয়ে দিতে পারি। কিন্তু মাল্টিভেন্ডার মেল-কমিউনিকেশান করার সময় আমি রাজা। চ্যাটবক্সে আমি সাতাশের গ্রেগরি করসো। সামনাসামনি মুখ ফুটে কথা বলার সময় আমার থেকে বেশী অসহায় বোধহয় আর কেউ নেই এই পৃথিবীতে।
নতুন ওডিসিটা কাছেই আর রাস্তাঘাটে কারুর সাথে কথা বলতে হয়নি দেখে খুশিই হলাম। সিটের আশেপাশে চেনাশোনা কেউ নেই। ডেস্কের ড্রয়ারটা খুলে দেখলাম সিটটি অনতিপূর্বে অন্য কারুর ছিল এবং সে ইচ্ছা বা অনিচ্ছা সহকারে অধিকাংশ জিনিস ফেলে রেখেই চলে গ্যাছে।
কোম্পানির প্রোটকল অনুসারে আমাকে অ্যাডমিনে ফোন করে ডেস্ক ক্লিয়ারেন্সের ডিপার্টমেন্টে যোগাযোগ করতে হত কিন্তু অফিসের কাজে মন ছিলনা আর হাতে সবসময়ই আমার অনেক অনেক সময়। অতলস্পর্শী ডেস্ক থেকে সমস্ত জিনিস বের করে কোলে রাখলাম। আলপটকা ক্ল্যারিক্যাল জিনিস ছাড়া আর ছিল একটি মুরাকামির নভেল আর একটি মুসল্লাহ।
তারপর, যেটা আমি গত দুই বছরে করিনি সেটাই করে ফেললাম। কিউবিকলের পাঁচিল টপকে অচেনা লোকটিকে জিজ্ঞেস করে ফেললাম এখানে আগে কে বসত।
- অ্যাম নট শিওর, মোস্ট প্রবাবলী শিরিন। লাস্ট নেম মনে নেই। ক্যান? কিছু দরকার?
বোকা খেজুরের গন্ধ পেয়ে ভায়লেন্টলী এরালাম কথাবার্তা।
তারপর আউটলুকে খুঁজতে বসলাম। অফিসে সবমিলিয়ে সাতান্নটি শিরিন, তারমধ্যে কলকাতায় আটটি। সবার কন্ট্যাক্ট কার্ড বের করলাম, তারপর ভেসে গেলাম। তিনজনকে ইন্সটিঙ্কটিভলী বাছাই করে কমুনিকেটারে লিখতে গিয়ে দেখি কিছুই কাজ করছে না। লাঞ্চে নিউজ চ্যানেলে দেখলাম চেন্নাই ভেসে গ্যাছে বন্যায়। সব মিলিয়ে সতেরোটা বিল্ডিং চেন্নাইতে কোম্পানির, মেজর সার্ভারস গুলো ওখানেই। তাই হয়ত দেশজুড়ে টেকনিক্যাল ইস্যু।
অফিস থেকে বেরলাম অসম্ভব জ্বালা নিয়ে সারা শরীরে। যেন জীবনই ব্যর্থ শিরিনকে খুঁজে না পেলে। রাতে ঘুম এল না। জেগে জেগে ভাবলাম কাল যদি আউটলুকের সমস্যা মেটে তাহলে কালই রহস্যের পর্দা উত্তোলন। সকালে উঠে জীবনে প্রথমবার অফিস যাওয়ার জন্যে পেটের কাছে হাল্কা উত্তেজনা অনুভব করলাম।
অফিসে গিয়ে দেখি চেন্নাইয়ের অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে চব্বিশ ঘণ্টায়। মেল সার্ভারস মায়ের ভোগে। অর্থাৎ আমার কোন কাজই হল না। পুরো দিনটি কাটল কপালের উপরে একটা কালো ছায়া নিয়ে।
হঠাৎ মাথায় এল, মেয়েটি যদি মুসলিমই হয় তাহলে সে রিলিজিয়াস। নাহলে অফিসে নামাজ পরার কাপড় আনত না। তারপর থেকে প্রতি নামাজের সময় যোহর থেকে ঈশা অব্দি মেয়েদের প্রেয়ার রুমের সামনে ঘুরঘুর করতাম। গোটা চারেক মহিলা সবথেকে বেশী ফ্রিকয়েন্ট ছিল। তিনদিনের মাথায় বুঝলাম আমার দ্বারা নিজে থেকে গিয়ে কথা বলা সম্ভব না। তারপরই ভাবলাম যদি সে রিলিজিয়াস হয় তাহলে মুসল্লাহ ফেলে যাবেই বা ক্যান? হয়ত এটি তাকে পরিবারের কোন শুভাকাঙ্ক্ষী দিয়েছিল, সে নির্মম আনগ্রেটফুল , তার তাতে কিছু যায় আসে না।
রাতে অসম্ভব মদ গিলে বাড়ি ঢুকলাম। ফ্ল্যাটমেট পাশের ঘরে মেহেদি হাসান চালিয়েছিল।
जैसे तुम्हें आते हैं ना आने के बहाने
ऐसे ही किसी रोज़ न जाने के लिए आ
ऐसे ही किसी रोज़ न जाने के लिए आ
খুব কান্না পেল। সিঙ্কের সামনে দাঁড়িয়ে অনেক কাঁদলাম। সাত বছরে অমন কাঁদিনি। হাল্কা লাগল। ঘুমালাম শিশুর মত।
পরদিন বৃষ্টি ঠেলে অফিস এসে দেখলাম মেল, কমিউনিকেটার সব দাঁড়িয়েছে। পরমানন্দে খুঁজে বের করলাম সেই তিনজন কে। দুজন ম্যানেজার লেভেলের, নরম্যাল কিউবিকলে বসবে না। পড়ে রইল ওই এক। দেখলাম কমিউনিকেটারে তার উপস্থিতি আননোন। মানে সে বিদেশে বা চাকরি ছেড়ে দিয়েছে। ধুক করে বুকের ঘোড়াদৌড় বন্ধ হয়ে গ্যাল। আশার মুখে পেচ্ছাপ।
পরদিন বৃষ্টি ঠেলে অফিস এসে দেখলাম মেল, কমিউনিকেটার সব দাঁড়িয়েছে। পরমানন্দে খুঁজে বের করলাম সেই তিনজন কে। দুজন ম্যানেজার লেভেলের, নরম্যাল কিউবিকলে বসবে না। পড়ে রইল ওই এক। দেখলাম কমিউনিকেটারে তার উপস্থিতি আননোন। মানে সে বিদেশে বা চাকরি ছেড়ে দিয়েছে। ধুক করে বুকের ঘোড়াদৌড় বন্ধ হয়ে গ্যাল। আশার মুখে পেচ্ছাপ।
শুরু করলাম সোশ্যাল নেটওয়ার্কিঙে খোঁজা। শুধুমাত্র একটি ভীষণ কমন নাম নিয়ে খুঁজে পাওয়ার আশা প্রায় নেই বললেই চলে। দিন দুয়েক সারাদিন ইন্টারনেটে বসে বসে অবসাদে প্রায় না খেয়ে না স্নান করে অসুস্থ হয়ে পরার উপক্রম হল।
আজ অফিসে গেলাম, পাশের ডেস্কের দাসবাবু বললেন একটি বুরখা পরা মেয়ে এসে আমার ডেস্কে ওর জিনিস খুঁজছিল,ডেস্কে চাবি আর ডেস্কে আমায় না পেয়ে বলে গ্যাছে লাঞ্চে আবার আসবে।
কোমরে তীক্ষ্ণ ব্যথা হতে লাগল, হাঁটু দুটো একে ওপরের সাথে ঠোকা লাগছিল, কানের কাছটা গরম লাগছিল। কাঁপা কাঁপা হাতে শিরিনের বাক্সটি দাসবাবুর জিম্মায় দিয়ে বললাম 'দিয়ে দেবেন'।
- একি, কোথায় চললে?
- শরীর ভাল নেই।
সোজা হেঁটে বাইরে এলাম। সিগারেট ধরালাম। বাস স্ট্যান্ডে এসে দক্ষিনের বাসে উঠলাম। ঈশ্বর পেয়ে গেলে মানুষ নির্লিপ্ত হয়ে যায়। নির্লিপ্ততাই বরং থাক। ঈশ্বরের সাথে কথা বলার সোশ্যাল স্কিল আর যাই হোক আমার নেই।
No comments:
Post a Comment